নিরাকার
আমি যার প্রেমে পড়ি-
তার আছে ফলের দোকান
যে আমার প্রেমে পড়েছিল-
তিনি এক মাংসের দোকানি
আমাদের ভালোবাসার যিনি মালিক-
তার আছে পাখির আড়ৎ
খাঁচার স্কুলে ভর্তি হচ্ছে পালক!
দয়াল আমায় দিও না তুমি ফেরত।
জীবনের আহ্লাদ
মানুষের উচিত
মাছেদের মাতৃভাষা শেখা
জানা প্রয়োজন
গাছেদের নীরবতা
পাখিদের কলরব শেষে
পানির কল্লোল
ঢেউয়ের মাতৃভাষা নৃত্য
ফেনিল স্বভাব
তোমার হাসি ব্যঞ্জনামুখর মুগ্ধতায়
সময়গুলোর ঠোঁট ফেটে যায়
কৌতুকের ছলে তুমি কি ভুলিয়ে দিলে
আমার প্রকৃত জীবনের স্বাদ!
আমি’র ভেতর
আল্লার মতোন আমি
নিজের প্রশংসা করতে শিখেছি
আপনি বরং নিন্দাগুলো
গুঁজে দিন আমার ফুলেল মতোন
লাল রক্তের সিনায়।
আর নিন্দা করতে করতে
ঘেন্না জমতে জমতে
থু থু গিলতে গিলতে
এক আমি’কে মিশিয়ে দিন
সকল আমি’র ভেতর!
ক্ষমতা ও দায়িত্ব
আল মোমেনকে
ক্ষমতা হলো, কাকে কতো ক্ষতি করা যায়!
আমরা ক্ষমতায় এসে হ্যানো ত্যানো করেছি
আমরা ক্ষমতায় গেলে ওমুক তমুক করবো
আমরা ক্ষমতায় থাকতে ঘটি-বাটি করেছিলাম!
দায়িত্ব শব্দটা তোমরা ভুলে গেলে?
আর কেউ এই শব্দ ব্যবহার করলে
দেশের মালিকানার অধিকারে
তাদের নামে আমরা মামলা করবো।
ক্ষমতাই পৃথিবীতে ক্ষতির কারণ!
আমরা তোমাকে দায়িত্ব দিবো
দায়িত্ব বিষয়টা দেয়ার
ছিনতাইয়ের তো নয়ই
তোমরা তার উপযুক্ত হও, পেয়ে যাবে
অথচ তুমি জোর করে দায়িত্ব নিলে!
দায়িত্বের জন্য মৃদু ক্ষমতা প্রয়োজন
কারণ
আমি চুরি করলে জরিমানা করবে
খুন করলে গারদে ভরবে
তদ্রুপ
তুমি চুরি করলে আমরা থাপ্পড় মারবো
ডাকাতি করলে লাথি মারবো
খুন করলে ফাঁসি দিবো
ভুলে যেও না, দায়িত্বের স্বার্থে তোমাকে ক্ষমতা দিয়েছি
কিন্তু তুমি ক্ষমতার জন্য দায়িত্ব বাগিয়ে নিলে!
দায়িত্বের চওড়া কাঁধে একদিন ক্ষমতা উঠে বসে
তুমি তাকে স্নেহের সহিত নামিয়ে দাও
তা না হলে এই ক্ষমতায় তোমার ঘাড়ে মল ত্যাগ করবে!
লঘু প্রশ্রয় কখনো শুভফুল ফোটায় না।
একদিন সেই প্রশ্রয়ের ফুল, ফল হয়ে
তোমার মাথা থেকে পায়ে গড়িয়ে পড়বে।
নবী
আমার কোনো দায় নেই
বিশেষ করে কবিতা লেখার ব্যাপারে!
কবিতা তো শিল্প
শিল্পের জন্য শিল্প
ব্যাস।
কিন্তু এটা আমার মস্তিষ্কের সায়
আর মন বলে ভিন্ন কথা
কেন লিখি আমি?
নিজের জন্য কি শুধু?
নাহ
অবশ্য আমাদের সকলের ভেতরে
এক একটা স্রষ্টা শুয়ে আছেন!
আমরা কারো না কারো কাছে
প্রশংসা ভিক্ষা চাই
তা যদি মানুষও না হয়
তবে?
দাউদ নবীর সুরের মতোন
পান করবে আমার এ কবিতা
সমুদ্রের মাছ।
মহুয়ার ভেলা
কোনো শব্দে তোমাকে বন্দী করা গেল না
এতো সামান্য করে কখনো ভাবিনি আমি
স্বপ্নে বেহুলার ভাসানে চিৎ হয়ে শুয়ে আসো তুমি
কপাল গুণে হয়েছি আমি লখিন্দর!
পৃথিবীর চাদর থেকে তোমাকে বেছে বেছে নিই
সমস্ত শরীরে যেন তুমি একফোটা তিল!
যার লালিমা শোভায় জেগে ওঠে ঘুমন্ত শিবির।
বোতলে আটকানো ভূত
ছটফট করা একটা সময়
দমবন্ধ করা একরাশ মানুষেরা
কোথাও নেই কুলি-কুচির মতো সামান্য পানি!
পুকুরগুলো ক্রমেই চোখের ভেতরে চলে এলো
মানুষের চোখে তবু ধুলো আর আবেদনহীন মসলায় রান্না।
চিকচিক করা কষ্টের ঘামগুলো সস্তা
ও ভিখারির করুণার মতো ধুঁকছে
শহরেও আর লোমওঠা কুকুর নেই
নেই শান্ত কোমল বিড়াল!
যতসামান্য কাকের দেখাও বড্ড দুরূহ
প্রাণীর জন্য কতোটা অনিরাপদ এই নগর!
সামনে ছুটতে গিয়ে পিছনে ঝুঁকে পড়ছে
জীবন বোতলে আটকানো এক একটা ভূত যেন
যার বিনাশ নেই, নেই মুক্তিও!
সেরা কবিতার গান
আমরা তো জানি কেউ না কেউ
ছেনে ফেলেছে সেরা কবিতার সিনা
কেন তবু এই মিথ্যে আস্ফালন?
শেখ সাদী কিংবা জালালুদ্দিন রুমি
আল মাহমুদ বা শহীদ কাদরী
গ্যেটে কিংবা রবীন্দ্রনাথ
আলাওল থেকে নাজিম হিকমত অথবা কাহলিল জিবরান
পাবলো নেরুদা কিংবা কাজী নজরুল ইসলাম
বুদ্ধদেব বসু বা এজরা পাউন্ড
সুকান্ত, হাসান অথবা শেলি ও জন কিটস
সৈয়দ আলী আহসান নাকি ইয়েটস
শামসুর রাহমান নাকি ইলিয়েট
আমরা সকলে তো লিখছি প্রেম ও মানবতার গান
এমনকি আমাদের দুই ঊরুর মাঝে
স্থাপন করা মুখফাটা মরমি একই কলম কিংবা কামান
তাদের কালির রঙও অভিন্ন
আফ্রিকার প্যাপিরাস বা কালি
এশিয়ার অক্ষর আর ইউরোপের মেশিনে
আমাদের পরম্পরের সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে
আমরা সকলে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের বিদ্রোহী দাস
আহারে তুমি কি বলো ট্রামে হোঁচট খাওয়া বোধ
বনলতার প্রেমিক জীবনানন্দ দাশ?