প্রজন্ম আলাপাতা ডলছে।
আলাপাতা উত্তর বঙ্গের ভাষা। তামাক পাতা।
এই অঞ্চরের তামাক, গুল বা জর্দাখোরেরা একটি বিশেষ পদ্ধতিতে আলাপাতা সেবন করে। বাম হাতের তালুতে এক চিলতে তাকাক পাতা নেয়। শুকনা তামাক। তাতে চুন মাখিয়ে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে ডলতে থাকে। এক সময় ডলতে ডলতে আলাপাতাটি ‘ছিলিম’ আকৃতি ধারণ করে। তামাকখোর ব্যক্তি সেই ‘ছিলিম’ মুখে পুরে দেয় এক বিশেষ পদ্ধতিতে-নীচের সারির দাঁতের ফাঁক গলে ঠোঁটের মধ্যে। এটাই হলো- আলাপাতার নেশা। বর্তমান প্রজন্ম এই আলাপাতাই ডলছে।
বাম হাতে স্মার্টফোন। আর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ডলে চলছে ফেসবুকের পাতা।
এ এক ভয়াবহ নেশা। তামাকের চেয়েও ভয়ঙ্কর। প্রজন্ম এই আলাপাতা ডলছে!
আমরা এক আলাপাতা ডলা সভ্যতায় প্রবেশ করছি। দিন নেই রাত নেই।
বাসা-বাড়ী, রাস্তা-ঘাট, বাজার-দোকান-মার্কেট, স্কুল-কলেজ সবখানেই আলাপাতা ডলা চলছে। স্মার্টফোনের ফেসবুক!
শুনলাম ইদানিং মোবাইলগুলোও নাকি চালাক হয়ে গেছে-
ভয়াবহ অবস্থ।
আর এই টাচের আঁচে জাতি হয় ছারখার।
কে যেন বলেছিল-
ফেসবুকে কমেন্টস করতে কি সুন্দর সুখ।
আসলেই ফেসবুক আমাদের উজবুক বানিয়েছে। নিজের স্ট্যাটাস যাই থাক না কেন ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখলে বুক ধুকপুক করে।
ফেসবুক নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই।
বাংলাভাষা রক্ষা করো- শ্লোগানধারীরা তাই ফেসবুকের অনুবাদ করেছে চেহারা বই।
কিন্তু ফেস আর বুক দুটোই যখন চেহারা আর বই হয়ে যাচ্ছে তখন বাংলা ‘বুক’ শব্দের যে অর্থ তার সাথে তাল মিলালে ‘ফেসবুক’ শব্দের ভাবার্থ হয় ভয়ংকর! তালগোল পাকানো অবস্থা! ফিমেল কেসে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা।
ফেসবুক- তার আবার আছে- আইডি। ফেসবুক আইডি। আইডির আবার নানা কিসিম ভেরিফাইড, নন-ভেরিফাইড ফেক ইত্যাদি।
ইদানিং স্মার্ট ফোনের কল্যাণে ‘সেলফি’ তোলার প্রবণতা তুলনামূলক হারে বেড়েছে।
সেলফি শব্দের ওপার বাংলায় গবেষণা করা অনুবাদ হয়েছে নিজস্বী।
জানি না শব্দটা ঠিক জায়গায় প্রয়োগ হয়েছে কি না। ইন্টারনেট যদি অন্তর্জাল হতে পারে, মোবাইল যদি মুটোফোন হয়, ইমেইল যদি উড়োচিঠি হয় তবে- সেলফি নিজস্বী হতে পারবে না কেন?
সমাজে নানান কিসিমের মানুষ থাকে।
সব ধরনের মানুষেরই এখন যেন একীই অস্ত্র ফেসবুক।
তোমাকে আনফ্রেন্ড করবোজাতীয় ধমকে আরেকজন হুমকি দিচ্ছে তোরে ব্লক করে দিমু!
আনফ্রেন্ড আর ব্লকের যুদ্ধ চলছে।
চাচা-ভাতিজা, বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে, গুরু-শিষ্য, নেতা-কর্মী, বস-কর্মচারী সামাজিক পরিচয় যাই হোক না কেন ফেসবুক সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার পরিচয় ফ্রেণ্ড। বন্ধু। নাম সামাজিক মাধ্যম অথচ তার শুরুতেই কতবড় অসামাজিক কাজ-কারবার। প্রবেশ পথেই বাবাকেও নাকি বলতে হবে বন্ধু! পীর মুরিদকে বলবে বন্ধু, খালা ভাগ্নকে বলবে বন্ধু। অদ্ভূত এই সামাজিক যোগাযোগ। কত বড় অসামাজিক সমাজ ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি আমরা।

বিশ্বায়নের একটা খেলা আছে।
খেলাটির নাম সামাজিক সামাজিক খেলা।
যে যত ধর্ম, পরদা-পুশিদা ইত্যাদি মেনে চলে সে হলো বিশ্বায়নের ভাষায় আনসোসাল অসামাজিক। আর যে যত ঢলাঢলি করে গায়ে পড়ে সে সোসাল। সামাজিক।
সেই অসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম নাকি সোসাল মিডিয়া- সামাজিক মাধ্যম।
কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন।
বর্তমান সমাজের দিকে তাকান।
দেখুন।
সমাজের মধ্যে যত অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হয় তার অধিকাংশের সুতিকাগার হলো এই সামাজিক মাধ্যম।
ফেসবুকে পারস্পরিক পরিচিতির একটা পর্যায়ে নৈতিক কিংবা অনৈতিক যে সম্পকই তৈরি হোক আখেরে তার পরিণতি খুব একটা সুখকর নয়।
অনেকে দ্বিমত পোষণ করবেন। বলবেন এটা তো নানা উপকারও করে। করে তবে, পর্বতের মুষিক প্রসব। ইয়া বড় পাহাড় হতে একটি ইঁদুর প্রসব হলে যে ধরনের আউটপুট ঠিক সে রকম।
ব্লগার বর্তমান সময়ের উচ্চারিত আরেকটি নতুন সংযোজিত শব্দ!
উত্তরবঙ্গে এদেরকে বলে ‘বোলোগার। আর তাদের এ উচ্চারণে এতটাই বিকৃতি যে শুনতে বেশ ভাল্গার লাগে।
সে যাই হোক, তবে কথা হলো, বাঙালি ব্লগাররা যা দেখিয়েছে, তাদের সুমহান কীর্তিকলাপ যে আউটপুট এ জাতিকে দিয়েছে তা ভালগার বা এর চেয়ে কম কী!
এই ব্লগাররাও ফেসবুকেই তাদের ঠিকানা খুঁজে নিয়েছে। অথচ তাদের ঠিকানা ছিল ব্লগে। অর্থাৎ কোন ওয়েবে তারা লগ করবে যা ব্লগিং বলে পরিচিত। শেষমেশ তা আর নির্দিষ্ট ব্লগে থাকলো না- এসে আশ্রয় নিলো সামাজিক মাধ্যমে অর্থাৎ ফেসবুক টুইটার কিংবা ওয়েবসাইটে।
ব্লগারদের সমূদয় আউটপুট জাতির জন্য কতটুকু উপকারী তা বিশ্লেষণের সময় এসেছে। নিজের মতামত প্রকাশ করার স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে ব্লগের বলগাহীন উন্মাদনা দিয়ে ভিন্নমতকে যা ইচ্ছে তাই বলা।
ব্লগাররা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই কাজটিই করছে। যার ফলে সমানে বিভেদ বেড়েছে। সামাজিক ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে।
সমান ব্যবস্থায় এই ফাটলের ঘূণ ধরালো যে ব্যবস্থা তার নামই নাকি সোসাল মিডিয়া সামাজিক মাধ্যম। হায় সেলকাম! অদ্ভুত এই আলাপাতা ডলা সভ্যতা।
অদ্ভুদ এই আলাপাতা ডলা প্রজন্ম।
ফেসবুকের ফেক আইডির তো আলাদা পরিচিতি আছে। নামই তার ফেক অর্থাৎ ভুয়া।
কিন্তু ব্লাগারদের পরিচিতির তো ভয়াবহ অবস্থা। একেকটা নাম দেখলে শরীর হীম হয়ে যায় থাবা বাবা, কলাখাবা, সুখের ভূত, কুতকুত বিবি, ছায়া মানব, পল্টি দানব, সুরসুরি, তারছেড়া, ক্ষেতাবালিশ, মলম মালিশ আরো কত বিচিত্র শব্দের অপপ্রয়োগ।
আবার ভালো শব্দের নামগুলোরও তীর্ষক ব্যবহার: পয়গম্বর, মুক্তির দূত, জল পড়ে, হেরার বেড়া ইত্যাদি শব্দগুলো যতটা না শ্রুতিমধুর তারচেয়েও বেশি ভয়াবহ হলো তাদের ব্লগের লেখাগুলো। পড়বেন তো মরবেন। নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই অন্ধকার করবেন।
এই ব্লগারাই আবার মাঝে মাঝে এক্টিভিস্ট হয়ে অনেক সংগঠন গড়ে। তারেদ চেতনার ঠ্যালায় মাঝে মাঝে জাতি অচেতন হয়ে যায়। জনবহুল রাস্তা হঠাৎ স্তব্ধ!
কারণ কি?
খোঁজ নিয়ে দেখা গেলো ব্লগারদের চেতনা জাগ্রত হয়েছে লাফালাফি করছে রাস্তা বন্ধ করে।
আর এদিকে সামনের হাসপাতালেও ঢুকতে পারছে না এম্বুলেন্স!
ভেতরে মৃত্যু পথযাত্রী রুগী ততক্ষণে অচেতন। চেতনার ঠ্যালা যাকে বলে?
তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হলো তোমরা কারা?
তারা উত্তর দেয় আমরা ব্লগার।
পৃথিবীর আর কোন দেশে এরকম ব্লগার এক্টিভিস্টদের আন্দোলন না থাকলেও বাঙালীদের মধ্যে এই শ্রেণী পাওয়া যাবে। বাঙালী বলে কথা! এই আলাপাতা ডলা প্রজন্মই আবার নতুন নতুন নামে মঞ্চ তৈরি করে নেশায় বুদ হয়ে না লাফায়, মাতলামো করে আর নিজেদের পরিচয় দেয় প্রজন্ম চত্বর কর্মী।
কোন প্রজন্ম এরা?
আসলে খোঁজ নিজেই দেখবেন এরাই হলো সেই প্রজন্ম যারা আলাপাতা ডলছে। আলাপাতা ডলা প্রজন্ম।
এই প্রজন্ম আলাপাতা ডলার এতো সুযোগ পাচ্ছে কিভাবে?
এই অনন্ত প্রশ্নের উত্তর যদিও আনলিমিটেড তবু মাত্র এক শব্দেই এর উত্তর আছে।
শব্দটাও বেশ পরিচিত। এখন যত্রতত্র এই শব্দের প্রয়োগ।
শব্দটা হলো ‘অফার’।
অফারে অফারে আসল মূল্যে বাফারি চলছে। অর্থাৎ কত শত বিচিত্র অফারে ফেসবুক, ব্লগিংয়ের আকাশ উন্মুক্ত।
ইয়াবা, এক বস্তা মুড়ির অফার চলছে কিন্তু মেয়াদ মাত্র একদিন।
আর মুড়িটা খেতেও হবে মাত্র একসঙ্গেই। তাহলে সেই মুড়ি খাওয়ার জন্য অফারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কত বড় খাদক হতে হবে, চিন্তা করুন।
শুনবেন যে ডাটা ফ্রি। শাক-সবজী, আলু পটন বেগুন ফ্রির কথা শুনবেন না কিন্তু ডাটা ফ্রি শব্দটা অহরহ শুনবেন। তবে এই ডাটা সেই ডাটা-শাক নয়।
এই হলো ডাটা ইন্টারনেটের ডাটা!
আর এই ফ্রি ডাটার খোয়াবে ডাটা ব্যবহারে আগেই প্রজন্ম আলাপাতা ডলছে, উন্মাদ উন্মুক্ত আর ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মতো।
ইদানিং ‘ফেসবুক লাইভ’ শব্দটিও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এর সাথে যোগ হয়েছে আরো কিছু এ্যাপ্স। ইমো, ভাইবার, ইনস্টগ্রাম, ওয়াটঅ্যাপ ইত্যাদি।
রাতের অতিথিরা এখন এই সব লাইভে আসছে।
প্রজন্মের রাতের ঘুম হারাম।
কানে হেডফোন, সামনে স্মার্টফোন।
আলাপাতা ডলছে।
লাইভ চলছে।
লাইভ আর আলাপাতা ডলা দুয়ে মিলে আরো কিছু তোলপাড় চলছে।
ফলে পরকীয়া বাড়ছে।
টিন এজার লুজার হচ্ছে।
নৈতিকতা শেষ।
অবক্ষয় বেডরুমে শুয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সেলফি, লাইভ নিজের ব্যক্তিগত বিষয়গুলোকে দুনিয়ার সামনে তুলে ধরছে। ব্যক্তিগত আর প্রাইভেট শব্দগুলো কিছুদিন পর জাদুঘরে পাওয়া যাবে। কারণ এখন সবই সামাজিক। সবাই সবার। আমার বউ তোমার বউ তোমার বউ আমারও বউ অবস্থা এত ভয়াবহ যে, নিজের বউও হয়ে যাচ্ছে সমাজের বউ। আমিও হয়ে যাচ্ছি সবার আমি। আমার কোন আমিত্বও নেই। তোমার কোন তুমিত্ব নেই। সবাই সবার। কাছে থাকুন বিজ্ঞাপন এতটা কাছে টানছে যে, শান্তির উপরে উঠে অশান্তি চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলছে। কাছে থাকার কত ঠ্যালা এবার বুঝুন।
দেখাও তোমার ভেতরের রূপ, অদেখা তোমায় কে হতে চায় জাতি, আরো কত যে মেলে ধরাতে আহ্বান। কর্পোরেট পতিতাবৃত্তি বাড়ছে। সমাজ কলুসিত। জাতি উন্মুক্ত। খুলতে খুলতে ধূতির কাছা বিপদ সীমায় যেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুণগান যারা করতে চান তারা হয়তো বলবেন, এখানে তো অনেক শিক্ষা উপকরণও আছে। আছে সত্য তবে অশিক্ষা-কুশিক্ষার মহাসাগর হতে সত্যের হিরে-চুনি-পান্না খুঁজে বের করার জন্য হ্যাডম লাগে।
এই আলাপাতা ডলা প্রজন্মের সেই হ্যাডম কি আছে? যেখাসে সানি লিওনদের উন্মুক্ত বুক দেখতেই আকাশ উন্মুক্ত সেখানে রূপালী জ্যোছনার বিকিরণ খোঁজার সময় কৈ? কিছুদিন আগে এক সমজিদে ইমাম সাহেব খুতবায় বললেন ইন্টারনেট-ফেসবুক থেকে ইসলাম শেখার শেখার চেষ্টা করবেন না, ইসলাম শিখবেন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। উস্তাদের কাছে। নেটের শেখানো ইসলাম আপনাকে হেদায়েত দিতে পারবে না।
তার এ বক্তব্যে আমার ভাবনা দ্বিমত ছিল। এখন দেখছি- অবস্থা ভয়াবহ! তার বক্তব্যই ঠিক। শতকরা হিসেবে ধরলে পয়েন্টের পরে কয়েকটি শূন্য বসাবেন তারপর এমাউন্ট।
গতকালও ফেসবুকে একজন স্ট্যাটাস দিয়েছে পৃথিবীতে সেই ব্যক্তিই সুখী যার কোন রেডিও টিভি নেই ডিস নেই নেট নেই ফেসবুক-ইমেইল কিচ্ছু নেই। প্রতিনিয়ত আলাপাতা ডলার নেশায় বুঁদ প্রজন্ম অবশ্য এই দর্শন বুঝবে না। সুখী মানুষের জামা থাকে না- এই দর্শন বুঝতে হলে দার্শনিক হতে হয় না। বাস্তবতা দিয়েই বুঝা যায়।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন- বিশ্ব ভূবন দেখবো আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।
নজরুল যদি আলাপাতা ডলা এই প্রজন্ম দেখতেন তবে দুঃখ পেতেন। ভূবন কিভাবে মুঠোয় উঠে এসেছে। আহা!
তিনি হয়তো বলতে বাধ্য হতেন আমি কি এই ভূবন চেয়েছিলাম? আলাপাতা ডলা ভূবন?
ইদানিংকালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহা উৎসব চলছে। প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস। প্রশ্ন হলো এ ফাঁসের উৎস কোথায়?
উত্তর হলো সেই ফেসবুক। বললে তো বলবেন বলছি! যত দোষ ফেসবুক ঘোষ। কর্তৃপক্ষ নাকি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ফেসবুক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। একজন এমন খবর শুনে বলেছিলেন- এটা নাকি পরকীয়ায় আসক্ত বউকে সামলে রাখার পরিবর্তে পাড়ার বখাটে যুবকদেরকে একটা ঘরে আটকে রাখার সিদ্ধান্তের মতন। হা হা হা।
হাসি পাচ্ছে এমন মন্তব্যে?
হাসবেন না। ভিক্ষা চাই না কুত্তা সামলাও।
ফেসবুক চাই না প্রজন্ম সামলাও।
আলাপাতা চাই না সভ্যতা সামলাও।
আর একটি পরিভাষা চ্যাটিং। যার বাংলায় অর্থ আড্ডা।
আগে ‘আড্ডা’ শব্দটা উচ্চারনই ছিল ভয়াবহ অপরাধ। এখন প্রজন্ম চ্যাট করে? মানে আড্ডা দেয়।
কোথায় চ্যাট করে? আবারও উত্তর সেই ফেসবুক।
হায় রে ফেসবুক। ফেসবুক ফেসবুক ফেসবুক। মাথা ধরে যাচ্ছে উচ্চারণ করতে করতে।
চ্যাটিং বা আড্ডা যাই হোক এটাও এখন নাকি প্রজন্মের সময় কাটানোর অন্যতম বিনোদন। বিনোদনের আর কোন মাধ্যম এখন কার্যকর নয়। চ্যাটিং হলো এই ষষ্ঠ মাধ্যম।
একটু আগে বাথরুম পেয়েছিল।
পোষা বিড়ালটা খোসা খাচ্ছে না।
কলার খোসায় পিছলে পড়েছি।
এইসব ফালতু কথা চ্যাটের উপজীব্য।
চ্যাটিংয়ের উপজীব্য যাই হোক সময় নষ্ট করার সর্ব উৎকৃষ্ট হাতিয়ার হলো চ্যাট। যেন প্রজন্মের হাতে অফুরন্ত সময়। সব সময়কে তারা কাজে লাগাতে পারছে না। এই আলাপাতা ডলার যতগুলো ডালপালা তার অন্যতম মাধ্যম চ্যাটিংয়েই তারা সময় কাজে লাগানোর অন্যতম উপকরণ হিসেবে বেছে নিয়েছে।
চ্যাটিং ডেটিংয়ে রূপ নিচ্ছে।
সাক্ষাৎ আলাপে কারো কারো সমীকরণ মিলছে না। ফেসবুক আলাপ আর সরাসরি আলাপে ব্যাপক গড়মিল।
চ্যাটিংয়ে বলেছে সে খুব সুন্দর।
সাক্ষাতে দেখা গেল সুন্দর না বান্দর!
চ্যাটিংয়ে বিশ্বাস জন্মেছিল অতি ধনী ছেলে।
বাস্তবে দেখা গেল হাভাতে কাঙ্গাল!
চ্যাটিং শেষে ডেটিং করতে গিয়ে যখন বেটিং মিলছে না তখন বাড়ছে পারস্পরিক সংঘাত।
মন কষাকষি দর কষাকষিতে রূপ নিচ্ছে। হয়তো সেই দর অতি দামে রূপান্তরিত হচ্ছে। জীবন দিয়ে মূল্য পরিশোধ!
ফেসবুকের চ্যাটিং শেষ হলো একটি মহামূল্যবান প্রাণ কেড়ে নেবার পর। আলাপাতা ডলার একটি অধ্যায়ের পরিসমান্তি ঘটেছে আজ। হয়তো মিডিয়ার এখন শিরোনামে হবে না, তবে এতখানি তো হবে যে ফেসবুকে পরিচয়। পরকীয়ায় পরিণয়। সাবেক স্বামী কর্তৃক প্রেমিকসহ খুন।
পরিণতি দেখছেন?
কত ভয়াবহ!
আগে চিঠি পোস্ট করতে পোস্ট অফিসে যেতেন।
এখনও পোস্ট করেন। তবে তা ফেসবুকে।
পোস্টের আবার অনেক অলিগলি। অনেক চিপাচাপা।
বক্তব্য পোস্ট হলো।
তাকে আবার পছন্দ করতে হবে।
লাইক দিতে হবে। কতগুলো লাইক পড়লো আলাপাতা সেবীরা তা গুনে গুনে রাখে। লাইক কম হলে মন ভীষণ খারাপ।
শুনেছি লাইক নাকি কেনাও যায়।
লাইক কেনার জন্য কোম্পানিও আছে।
কারণ লাইকে নাকি বাণিজ্যও আছে।
লাইকের পরে আছে কমেন্টের কথা।
ফেসবুকের কোন পোস্ট পড়ে বা দেখে মন্তব্য করাকে কমেন্ট বলছে আলাপাতা সেবীরা।
কমেন্টও গোনা হচ্ছে।
কমেন্টের পাল্টা কমেন্টেও হয়।
কমেন্টও নাকি কেনা যায়।
এর জন্য এজেন্সি আছে।
কি অদ্ভুত ব্যাপার-স্যাপার, তাই না?
ফেসবুক।
কারো সংসার গড়ছে।
কারো ভাঙছে।
কেউ কেউ মরছে।
কারো পা পিছলে যাচ্ছে।
পঁচা শামুকেও পা কেটে যাচ্ছে।
ফেসবুক কারও সর্বনাশা।
কারও পৌষ মাস।
পৌষ মাস যাদের; তাদেরও একটা বর্ণনা দিই।
পেজবুকে বাণিজ্যের একটা জগৎ আছে।
অনলাইন শপিং এই পরিভাষাটিও ইদানিং বেশ পরিচিত।
দিন বদলের কেনাটাকার নতুন স্টাইল।
ফেসবুকের যারা দোকানদার তাদের অবস্থা পোয়াবারো।
কেনাকাটায় ধূম।
পণ্যের ছবি দেখো।
ফেসবুকেই অর্ডার দাও।
পণ্য ডেলিভারি নাও, ব্যাস্।
এক্ষেত্রে আলাপাতা শুধু ছেলেরাই ডলছে না মেয়েরা আরেক ধাপ এগিয়ে।
ছাত্রী, তরুণী, গৃহীনি কিংবা চাকুরীজীবী সব ধরনের মেয়েরাই আলাপাতা ডলছে, পছন্দের পণ্য অর্ডার দিচ্ছে। তবে একটাই আলাপাতা ডলা চলছে।
সম্প্রতি আরেক আজব খবর অনলাইন পাড়ায় তোলপাড় তুলছে। বিটকয়েনের জবর খবর। এটা নাকি অনলাইনের মুদ্রা।
এখানেই কেমনে কেমনে কেনা যায়। আবার বেচাও যায়। সুতরাং প্রজন্মের আলাপাতা ডলা অনলাইনে বণিকরা এই বিটকয়েন নামক অদ্ভুত মুদ্রা ধুমছে কিনছে। এই কেনা-বেচার নামটাই আরো অদ্ভুত।
মাইনিঙ। যেন খনি থেকে মাইন করা কোন মুদ্রাবান ধাতু। আহা রে আলাপাতা ডলার নেশা!
গাঁজার নৌকা পাহাড় বেয়ে চলছে!
বিটকয়েন ক্রেতারাও যথারীতিই আলাপাতা ডলছে।
আবার পত্রিকায় দেখলাম বিটকয়েনের দর পতন হয়েছে। তার মানে বুঝা গেল ওটাও শোয়ার বাজারের মত কোন ব্যাপার-স্যাপার।
দর উঠে।
পড়েও যায়।
আলাপাতা ডলা বণিকরা স্বাভাবিক শেয়ার বাজারের মতই যখন বিটকয়েনের দাম বাড়ে তখন আনন্দিত হয় আর দাম কমে গেলে মন খারাপ করে বসে থাকে।
রাতের ঘুম হারাম করা এই অনলাইনের সোসাল মিডিয়া কেমন করে জাতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে তার কিছু নমুনা এবার দেখা যাক।
এই আলাপাতা ডলা তরুণ-তরুরীনা হয়ে যাচ্ছে চলমান ধারাভাষ্যকার। একটু পর পরই স্ট্যাটাস আপডেট করছে।
অনুভূতি ভাগাভাগির নামে চলছে অনুভূতিহীনতার মহোৎসব। নির্ধারিত ছবি আপলোড করছে অনির্ধারিত বিবেকহীনতায়। ফলে অজস্্র সময় নষ্ট হচ্ছে তাদের জীবনের অসময়েই। জীবনের বাড়ন্ত সময়ে তারা হয়ে যাবে বিকলাঙ্গ এক মানুষ।
প্রতিবন্ধি।
পঙ্গু।
ভাবলেশহীন।
বুদ্ধিহীন এক প্রাণী।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ফলাতে হবে না, সাদা চোখেই তা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।
সময় নষ্ট।
মেধা নষ্ট।
শ্রম নষ্ট।
পয়সা নষ্ট।
স্বাস্থ্য নষ্ট।
সেই সাথে আগামী দিনের জাতির বিবেকও হয়ে যাচ্ছে বিকলাঙ্গ।
এ কোন মাদকতায় আসক্ত হলো এ জাতি?
এ মাদকাসক্তির জন্য কোন নিরাময় কেন্দ্র আছে কি?
কোন্ উপায়ে এই আসক্তি থেকে মুক্তি মিলবে আমাদের?
সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন সম্ভবত এটাই।
এই অনলাইন এক্টিভিস্টদের আরেকটা গ্রুপও বেশ সোচ্চার হয়েছে ইদানিং। এদের বক্তব্য আবার সম্পূর্ণ উল্টা। তারা তাদের স্ব স্ব আদর্শ প্রচার করে। এটা নাকি দাওয়াতের মাধ্যম। দাবি করছে তারা মানুষকে হেদায়েতের কাজ করছে। এই শ্রেণিও বহ ভাগে বিভক্ত। একেকটা একেক ধরনের। প্রত্যেকেই নিজেদেরকে সহীহ দাবি করছে। কেউ সালাফি কেউ কওমী। কেউ পীরপন্থী। কেউ আবার স্ট্যাটাস দিচ্ছে ঘোড়ার ডিমের সাথে ঘোড়ার কোন সম্পর্ক নাই, তেমনি পীরের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই।
বুঝুন অবস্থা!
এদের কেউ মাজারি। কেউ কেউ বলছে ওরা তো বাজারি, ভণ্ড।
তবে কথা যাই হোক এই হুজুর, পীর, মাওলানা আর ধর্ম পাগল শ্রেণিও সমানে আলাপাতা ডলছে।
অন্য ধর্মের অনুসারীরাও বসে নেই। একটি মূর্তির বা দেব-দেবির ছবি আপলোড করছে। তারপর পোস্ট দিচ্ছে লাইক না দিয়ে যাবেন না। শেয়ার করুন, না করলে আপনার খবর আছে! ইত্যাদি।
অর্থাৎ তারাও আলাপাতা ডলছে মুঠোফোনের ধর্মপ্রচার নামক আলাপাতা।
আরো একটা গ্রুপ আছে। তারাও অনলাইনে পেশ সোচ্চার। তারা বলছে এই ইন্টারনেট-ফেসবুক ইত্যাদি হলো দাজ্জাল। কানা এক চোখা দানব।
এদের দাবি জাজ্জাল এক সময় বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিবে। এই সেই দাজ্জাল যে ইন্টারনেটেরম মাধ্যমে বিশ্বকে হাতের মুঠোয় নিয়েছে।
বুঝুন ঠ্যালা!
আলাপাতা ডলা প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত দাজ্জাল আবির্ভাবে গিয়ে ঠেকলো।
অবশ্য যারা এই দাবি করছে তারাও সমানে আলাপাতা ডলতে ডলতেই এই থিওরি দিয়ে যাচ্ছে।
অর্থাৎ কথা হলো আলাপাতা ডলা হতে মুক্তি নেই। গত জয়েক বছরে এই আলাপাতা ডলা সভ্যতা এদেশে বেশ কিছু খুনোখুনির ঘটনাও সংঘটিত করেছে বলে মিডিয়া দাবি করেছে।
ব্লগার খুন। মিডিয়ার শিরোনাম।
আলাপাতা ডলা প্রজন্মের কেউ এটাতে আক্রান্ত হয়। তারপর খুন হয়।
মিডিয়া বলছে এরা ব্লগার। তাই খুন। তাদের দাবি এই খুনগুলোর সাথে জড়িত আছে কট্টরপন্থী উম্বুক দল।
অর্থাৎ বুঝা গেল আলাপাতা ডলা সভ্যতা ভগ্নবাদী দলেও উত্থান ঘটাচ্ছে।
হায় রে আলাপাতা ডলা সময়!
যেহেতু ধর্ম প্রচারের মাধ্যম হিসেবে এটাকে দাবি করা হচ্ছে তাহলে প্রশ্ন হলো সঠিক কে বলছে?
এক কওমী হুজুর ফতোয়া দিলেন পেশাব করে কুলুপ না নিলে পবিত্র হওয়া যায় না। শুধু পানি দিয়ে ধুলেই হবে না।
আরেক হুজুর তাকে সমর্থন করে কমেন্ট করছে কুলুপ নিয়ে চল্লিশ ধাপ হাঁটতে হবে।
ঠিক তার নীচেই একজনের উল্টা কমেন্ট- চল্লিশ ধাপ হাঁটা বেদাত।
বুঝুন ঠ্যালা!
যে ব্যক্তি আলাপাতা ডলে এসব কমেন্ট করছে সে বিভ্রান্ত!
হয়তো কমেন্ট আর পাল্টা কমেন্ট পড়তে পড়তে তার পেশাব-পায়খানা বন্ধ হবার উপক্রম।
এক মনে আলাপাতা ডলতে গিয়ে কত যে দুর্ঘটনা! পত্রিকায় দেখলাম রেললাইনে সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রেমিক-প্রেমিকা নিহত।
আবার ড্রাইভিংয়ের সময় আলাপাতা ডলতে গিয়ে বাসসহ ড্রাইভার খাদে ইত্যাদি। ফেসবুকেউ ছবি দেখলাম একটা ব্যাংকের ক্যাশিয়ার ক্যাশে বসে আলাপাতা ডলছে। কিউতে লম্বা লাইন!
সচিবালয়ে বসে একজন মন্ত্রী আলাপাতা ডলছে। দেশের অবস্থা বারোটা বেজে যাচ্ছে।
মন্ত্রীর হুশ নেই।
একজন আলাপাতা ডলার প্রসঙ্গে আরেকজনের কাছে জানতে চাইলেন তাহলে এর থেকে মুক্তির উপায় কি? আমরা এখন তাহলে কি করবো?
প্রশ্ন শুনে অপরজনের গম্ভীর উত্তর তুই ব্যাটা এখন ‘কী-ও’ করতে পারবি না!
কি করারও বন্ধ!
অর্থাৎ আলাপাতা ডলা প্রজন্ম এখন এমন এক মাইনকার চিপায় আটকা পড়েছে যে, এখান থেকে মুক্তির উপায়ও খুঁজে পাচ্ছে না!
না পারছে গিলতে!
না পারছে ফেলতে!
অবস্থা কত ভয়াবহ একবার ভেবে দেখুন।
হায় রে আলাপাতা ডলা সভ্যতা।
সৃষ্টিশীল পাগলামির অন্যতম প্লাটফরম এই ফেসবুক। মাঝে মাঝে এখানে গ্রুপ আইডির দেখা মেলে।
গ্রুপ আইডিরগুলোর নাম শুনলে ভিড়মি খাবেন।
হচকে মানে হতাশা চর্চা কেন্দ্র।
গাইরালা মানে সেরে ফেলা। কাউকে পুঁতে বা গাইড়া ফেলাকে চলছে গাইরালা আরো কত যে বিচিত্র গ্রুপ।
এদের আবার নানান পরিভাষা।
জীবনেও যে শব্দ শুনেননি। এদের কাছে শুনবেন।
এরা ‘ক্রাশ’ খায়। ‘লোল’ বলে। ওয়াও! ব্রো, সিস কত বিচিত্র শব্দের খিচখিচ ব্যবহার! এগুলোর অর্থ কি?
ব্রো মানে ব্রাদার।
সিস মানে সিসটার।
লোল এক ধরণের স্ল্যাস। মানে উচ্চস্বরে কথা।
লাউড অব লাফিং।
এই হলো আলাপাতা ডলা প্রজন্মের সৃষ্টিশীল উম্মাদনা। তার সাথে চলছে বাংলাভাষার বিচিত্র শব্দের খেলা।
জয়ের জন্য উচ্ছ্বাস জয়োচ্ছ্বাস।
চায়ের জন্য প্রার্থনা চার্থনা।
ব্যাকরণ নতুন করে লিখতে হবে নিশ্চয়।
সেই ব্যাকরণের নাম হবে ডলা
আলাপাতা ডলা প্রজন্মের জন্য প্রযোজ্য অত্যাধনিক বাংলা ব্যাকরণ।
ফেসবুকে তাবিজ তুমারের ব্যবসাও জমজমাট। পীর ফকিরী বাড়ছে। তাদের ঝাঁর-ফুঁকের ব্যবসাও চলছে নই আলাপাতা ডলা উপকরণে। অবাধ্যকে বাধ্যকরণ, বশীকরণ ইত্যাদির ব্যবসা।
গতকাল দেখলাম একজন ফেসবুকে রাস্তায় সাটানো বিজ্ঞাপনের ছবি তুলে আপলোড দিয়েছে ইনশা আল্লাহ ক্ষমতা পাবেন, যে সকল রাজনৈতিক দল ক্ষমতার আশায় বার বার আন্দোলন ডাকছেন কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছেন, আল্লাহ পাকের কালামের দ্বারা সঠিক তদারকির মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা পাবার নিশ্চয়তা দেয়া হয়।
বুঝুন ঠ্যালা কারে কয়!
ঘটনা আরো আছে।
তার ঠিক নিচেই আরেকটি বিজ্ঞাপনের ছবি তাতে লেখা অবাধ্য সরকারকে ৭দিনে বাধ্য করা হয়।
লে হালুয়া…
তাবুজ-তুমার-ঝাড়-ফুঁকের বাণিজ্য গৃহ থেকে রাজকাজে গিয়ে স্থান করে নিয়েছে। আর সেটা প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে। মানে সেই আলাপাতা ডলা পাত্রে।
অনেকদিন আগে এরকম বিজ্ঞাপন ফেসবুকে বেশ ঝড় তুলেছিল। তাতে একজন হুজুর অফার করেছেন পানি পড়া একশত টাকা।
নিজের জন্য মুনাজাত পাঁচশত টাকা
পরিবারের সবার জন্য মুনাজাত এক হাজার টাকা ইত্যাদি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য মিলাদে ডাকলে পানি পড়া ফ্রি।
এখন তো দিবসের শেষ নেই।
ভালোবাসা দিবস। ভালোলাগা দিবস। বিশ্ব মন ভালো দিবস। মন খারাপের দিন। আজ আমি কোথাও যাবো না ইত্যাদি।
প্রতিটি দিবস আসছে আর এই আলাপাতা ডলা সভ্যতা সেই দিবসকে কেন্দ্র করে উদ্ভট সাজগোজ করছে। তারপর সেলফি হেলফি তুলছে। এগুলো ফেসবুকে আপলোড দিচ্ছি।
নিজের জাতিসত্তা বিসর্জন।
বিজাতীয় সংস্কৃতির ঠ্যালায়।
রোমান রাজা দ্বিতীয় ক্লডিয়াস সেই ২৬৯ খৃস্টাব্দে অর্ধেক প্রেমের সম্পর্কের দরুন ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।
বাংলাদেশের শফিক রেহমান এই ঘটনা ১৯৯৩ সালে তার যায় যায় দিন পত্রিকার মাধ্যমে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ নামে আমদানী করলেন।
তরুণরা যা-তাই কিন্তু এই আমদানীতে মেয়েরা লাল জামজানী জড়িয়ে পরস্পর গড়াগড়ি ঢলাঢলি করছে!
হু হু করে এসব বাড়ছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এই অবৈধ-বৈধ নির্লজ্জতা। সাথে তো আলাপাতা আছেই।
ধর্মীয় অনুশাসনের কথা বাদই দিলাম সামাজিক অবক্ষয়ের কফিনে প্রতিনিয়ত পেড়েক ঠোকার ব্যবস্থা চলছে।
অবস্থা ভয়াবহ!
আর যদি ধর্মের কথা আমলে নেই তবে কথাই নেই। আলাপাতা আর নির্লজ্জতা দুয়ে দুয়ে কি যে হয় টের পাবেন!
একবার খালি মরে দেখুন।
ভালোবাসা দিবস, স্মার্টফোন, সেলফি, আলাপাতা ডলা সব পশ্চাৎ দেশে প্রবেশ করবে!
অবশ্য এসব ওপারের ভয়কে নাকি আলাপাতা ডলা প্রজন্ম জয় করে বসে আছে। কারণ ওরা মৃত্যুর কথা কখনো মাথায়ই আনে না।
বলে খাও দাও ফূর্তি কর
দুনিয়াটা মস্ত বড়।
পণ্ডিতরা একটা পরিভাষা ব্যবহার করেন বস্তুবাদী সভ্যতা।
এরা বস্তু নিয়ে পড়ে আছে।
যা চোখে দেখে না তাই শুধু বিশ্বাস করে।
যা চোখে দেখা না তা বিশ্বাস তো দূরের কথা আলোচনায়ও আনে না। ফেসবুক চ্যাট-আড্ডা-বন্ধু-গান-এফএম, মাদকতা, হটসিট, আরজে ডিজে সব জায়গায় যাই আলোচনা হোক না কেন মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে কোন কথা শুনবে না।
যদি এদের সামনে মরণের পরের টপিক তোলেন এরা বলবে
যা চোখে দেখি না তা বিশ্বাস করি ক্যামনে! বাদ দে এই টপিক।
তারচে আয়
চ্যাট করি
ডেটিং করি
জীবনটাকে ভোগ করি
আর সাথে আলাপাতা ডলি।
আলাপাতা ডলতে চান ডলুন কিন্তু একটা কথা বলুন মরে গেলে আপনাদের এই ধরনের আকাজ বুঝানোর দরুন যদি মাইর শুরু হয় তথা কোন অবসান আপনার আছে যে, মাইর থেকে বাঁচতে পারবেন? যা চোখে দেখিনা তা বিশ্বাস করি না এই যুক্তি কি সেই মাইর থেকে আপনাকে রক্ষা করবে?
অবস্থা যদি এমন হয় যে ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে!
সুতরাং এসব আলাপাতা ডলার ক্ষেত্রে ভাবুন।
একবার ভাবুন।
কতটা ভয়াবহ আগামী আপনার অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে বসে আছে! ♦♦♦