মানুষ অন্যান্য জীব থেকে আলাদা; কারণ তার আছে অর্থবোধক ভাষাসমষ্টি। হয়তো সে কারণেই ভাষার প্রভাব একটি জাতি আরেকটি জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে চায় মোড়লদারি হিসেবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা এই- ভাষা প্রভাবশালী প্রভাবক হিসেবে কাজ করে সমাজ-রাষ্ট্র-জনজীবন এমনকি সংস্কৃতিতেও! শিক্ষার বাহন কিংবা দাফতরিক কাজে ভাব-বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে কোন জাতিকে যখন অন্য একটি ভাষায় চালিয়ে নেয়া, তো সে জাতির মেরুদণ্ড ভাঙার যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করা। বর্তমান সময়ে বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতার দরুন সে কাজটি সহজ হয়ে যাচ্ছে; মূলত এখনকার চালাকি খুব বড় দৃশ্যত না হলেও শক্তিবান। ধীরে ধীরে গ্রাস করে আকাশ-সংস্কৃতি নামক সহায়কের সাহায্যে। হয়তো ভাষার মাস ফাগুন এলেই আমরা একটু চিল্লাচিল্লি করি; তারপর মরিচাপড়া ইতিহাসের পাতা! যেমনটা আজ আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।
পারি- বাংলাসাহিত্যের আাদি-লগ্নে মুসলিম সাহিত্যিকদের অবদান বিপুল এবং মৌলিক। সেইসাথে পুঁথি সংগ্রহ-সম্পাদনা-উদ্ধারে হিন্দু-মুসলিম ভেদরেখা নিশ্চিহ্ন করে আদায় করেছেন বিদগ্ধসমাজের বাহবা। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতো পণ্ডিত সাহিত্যবিশারদের কাজকে জার্মান সম্পাদকের কাজের সাথে তুলনা করেন। মূলত তাঁর অপরিমেয় শ্রম, উন্নত গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা সে সময়েই তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে সাহিত্যবোদ্ধা-পণ্ডিত সমাজে।
শুরুতেই প্রশ্ন রাখা যায়- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কে? আবদুল করিম ১১ অক্টোবর ১৮৭১ সনে জন্মগ্রহণ করেন পটিয়া, চট্টগ্রামে। পটিয়া ইংরেজি উচ্চবিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এন্ট্রাস পাস করেন, উল্লেখ্য তিনি ছিলেন ‘কর্ণফুলী নদীর পূর্বতীর থেকে টেকনাফ অবধি প্রাক্তন চট্টগ্রাম জিলার অর্ধাংশে ১৮৯৩ সনে একমাত্র এন্ট্রাস পাস মুসলিম এবং ১৮৯৫ অবধি সে অঞ্চলের একমাত্র এফ-এ পড়ুয়া ছাত্র।’ যিনি পরবর্তীতে চট্টল ধর্মমণ্ডলী প্রদত্ত ‘সাহিত্যবিশারদ’ নামেই খ্যাতিমান হন। সাহিত্যবিশারদ খ্যাতির নিচে চাপা পড়ে যায় নদীয়া সাহিত্য সভা প্রদত্ত ‘সাহিতত্যসাগর’ উপাধি। আশ্চর্যের বিষয়- এ সময় কিংবা প্রজন্ম সাহিত্যবিশারদকে চেনে না; জানে না তাঁর কাজের দুনিয়া সম্পর্কে। সাহিত্যবিশারদ নিজেই বলেন এভাবে- ‘আমিই প্রথম হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালির কাছে বিস্মৃত মুসলিম সাহিত্য-অবদানের সন্ধান দিয়াছিলাম।’ বশির আল হেলালের উক্তিটিও স্মরণ করা যায় এখানে- ‘সাহিত্যবিশারদকে বাঙালি কতটুকু মনে রেখেছে জানি না- কিন্তু আমাদের ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁর স্থান সম্পর্কে একালের ছেলেমেয়েরা সামান্যই জানে। যাঁরা জানে তাঁরাও হয়ত তাঁকে নিছক পুঁথিসংগ্রাহক ও তার সম্পাদক বলে জানে, এই কাজেরও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বা মর্যাদা সম্পর্কে তাদের বিশেষ কৌতূহল নেই।’ তার অন্যতম কারণ, আমাদের ইতিহাস বিস্মৃতিপরায়ণ মানসিকতা এবং রাষ্ট্রপক্ষের উদাসীনতা। সাহিত্যবিশারদ বলতে গেলে সারা জীবন ব্যয় করেছেন বাংলাসাহিত্যের কল্যাণে। তাঁর একক এবং উন্নতমানের গবেষণায় আমরা জানতে পারি- বাংলাসাহিত্যের আাদি-লগ্নে মুসলিম সাহিত্যিকদের অবদান বিপুল এবং মৌলিক। সেইসাথে পুঁথি সংগ্রহ-সম্পাদনা-উদ্ধারে হিন্দু-মুসলিম ভেদরেখা নিশ্চিহ্ন করে আদায় করেছেন বিদগ্ধসমাজের বাহবা। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতো পণ্ডিত সাহিত্যবিশারদের কাজকে জার্মান সম্পাদকের কাজের সাথে তুলনা করেন। মূলত তাঁর অপরিমেয় শ্রম, উন্নত গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা সে সময়েই তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে সাহিত্যবোদ্ধা-পণ্ডিত সমাজে।
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের বিশিষ্ট সদস্য পরবর্তীতে সহ-সভাপতি (১৩২৬), চট্টগ্রাম সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি (১৯১৮), কলকতা মুসলিম সমিতির সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি (১৯৩৯), চট্টগ্রাম সংস্কৃতি সম্মেলনের মূল সভাপতি (১৯৫১), কুমিল্লা সংস্কৃতি সম্মেলনের মূল সভাপতি (১৯৫২); এভাবে বিভাগ পূর্বাপর বিভিন্ন সাহিত্যসভা-সম্মেলন তাঁকেই ঘিরেই আবর্তিত হয়েছিল। আমরা যদি একটু সে সময়ের কথা পর্যালোচনা করি; গৌতম ভদ্রের রচনায় যেমনটা দেখি- ‘আজ থেকে কত শত আলোকবর্ষ দূরে বাস করেন মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ? ই-মেল, সাইবার বুক ইত্যাদিতে অভ্যস্ত আমরা কি জীবনের প্রান্তসীমায় পৌঁছে তাঁর মতো অবলীলায় লিখতে পারব, ‘তেঁতুল দেখিলে যেমন জিহ্বায় জল আসে, পুঁথির নাম শুনলেও আমার তাহা না দেখা পর্যন্ত সোয়াস্তি থাকে না।’ তার মানে, তিনি তাঁর কাজের ব্যাপারে ছিলেন নিবেদিত। সাহিত্যবিশারদ ব্যক্তি নন বরং সমষ্টিক হয়ে জাতীয় আকাক্সক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরেছিলেন পরিপূর্ণভাবে এবং কাজের স্বীকৃতি উপর্যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সব পদ অলংকৃতকরণ।
কিন্তু ভাষাসৈনিক, ভাষা-সংগ্রামী অভিধা তো আমরা সাহিত্যবিশারদের নামের আগে পাই না; উপরন্তু ১৯৫৩ সালে যেহেতু তাঁর মৃত্যু- তাহলে ৫২-এর উত্তাল সময়ে তিনি তো অশীতিপর! কিভাবে ভূমিকা রাখলেন ভাষা-আন্দোলনে? এ উত্তরের আগে এটা স্বীকার করা ন্যায্য- এসময়ে ভাষাসৈনিক কিংবা মুক্তিযোদ্ধা অভিধাগুলো যতটা না শ্রদ্ধা-উদ্রেক করে তারও বেশি বাণিজ্যপ্রবণ বলে প্রতিভাত হয় সচেতন চোখে। ফলত, সাহিত্যবিশারদ নামের সাথে ওসব অভিধা খুব বেশি প্রয়োজন বলে মনে হয় না; কারণ, প্রকৃত গবেষকেরা ইতিহাসের ভেতর দিয়েই যান! নবনূর- আষাঢ়, ১৩১০/১৯০৩- ‘বাঙ্গালা ভাষায় মুসলমানী সাহিত্য’; আল-এসলাম- আশ্বিন, ১৩২৫/১৯১৮- ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বনাম বঙ্গীয় মুসলমান’ শীর্ষক প্রবন্ধ; কলকাতায় অনুষ্ঠিত সপ্তম বর্ষ বাংলাসাহিত্য সম্মেলনে পঠিত অভিভাষণ: ১৯১৪-এ ‘বাঙ্গালার মুসলমানগণের মাতৃভাষা’ শিরোনাম অভিভাষণে আমরা সাহিত্যবিশারদের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন চোখে দেখি মাতৃভাষার জন্য কাতরতা, করণীয় সম্পর্কে জাগরণ সৃষ্টি এবং নির্জীব মনোভাবের জন্য দীর্ঘমেয়াদি দুঃখবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেও ভুলেন না। সর্বোপরি তাঁর বিভিন্ন অভিভাষণ এবং প্রবন্ধে দেশভাগের যন্ত্রণাও মূর্ত হয়ে ওঠে।
‘বঙ্গভাষায় মুসলমানী সাহিত্য’ প্রবন্ধে মাতৃভাষা ও জাতীয় ভাষা কিরূপ হওয়া উচিত তা সাহিত্যবিশারদ বলেন এভাবে- ‘দেশ প্রচলিত ভাষাই কোন জাতির মাতৃভাষা ও জাতীয় ভাষা হওয়া উচিত এবং স্বাভাবিক।’ আবার ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বনাম বঙ্গীয় মুসলমান’ প্রবন্ধে বাংলা ভাষাই যে বাঙালি জাতির জাতীয় ভাষা হবে তা জোর দিয়ে বলেন, তিনি লিখেন- ‘বাঙ্গালা ভাষা ভিন্ন অন্য কোন ভাষা বাঙ্গালী মুৃসলমানের মাতৃভাষা ও জাতীয় ভাষা হইতেই পারে না।’ প্রবন্ধ দুটো প্রকাশিত হয় ১৯০৩ ও ১৯১৮ সালে- অথচ ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি আসে ১৯৫২ সালে রক্তদানের মধ্য দিয়ে। তার মানে, সাহিত্যবিশারদ- তাঁর প্রাজ্ঞ চিন্তায় লালন করতেন বাংলা-ই হবে বাঙালির জাতীয় ভাষা। মহৎ চিন্তকদের স্বপ্ন অদূর ভবিষ্যতে হলেও যে হাতের নাগালে আসে তার প্রমাণ মাতৃভাষা ও জাতীয় ভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতি। কিন্তু সে সময় তাঁর এ উচ্চারণ সহজ ছিল না। কারণ, বাঙালি অভিজাত ঘরের ভাষা ছিল উর্দু-ফারসি। ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ খ্যাত শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলতেন উর্দুতে আর চাকরবাকরদের সাথে বাংলায়। অর্থাৎ নিম্নশ্রেণির ভাষা-ই বাংলা, এরকম একটা মনোভাব অভিজাত বাঙালিদের বরাবরই ছিল। কিন্তু সাহিত্যবিশারদ তাঁর মতে অটল ছিলেন। ড. আহমদ শরীফ যেমন বলেন- ‘সেদিন এ মত লিখিতভাবে উচ্চারণ সহজ ছিল না, প্রতিবাদ করছিলেন অনেকেই। কিন্তু সাহিত্যবিশারদ ছিলেন অটল।’ বসে থাকলে তো আর কোন কিছুর স্বীকৃতি পাওয়া যায় না; এ বিষয়ে সাহিত্যবিশারদ তাঁর প্রথম প্রবন্ধে বলেন- ‘বর্তমান বাঙ্গালা ভাষায় মুসলমানেরা কিছুই নাই, বলিয়া যাঁহারা আক্ষেপ করেন, তাহাদিগকে জিজ্ঞাসা করি, কেবল কি নাই, নাই বলিয়া চিৎকার করিলেই আমাদের নিজস্ব একটা ভাষা হইবে? না, অবশ্য চেষ্টা করিতে হইবে? কিন্তু কই চেষ্টা? কই চেষ্টা করিবার লোক?’ এবং দ্বিতীয় প্রবন্ধে স্মরণ করিয়ে দেন বাঙালিদেরই একটা অংশ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পাঁয়তারা করছে; যেমন- ‘কিন্তু অধুনা কিঞ্চিৎ পাশ্চাত্য বিদ্যা উদরস্থ করিয়া আমাদের মধ্যে কয়েকজন লোক- সুবুদ্ধি কি কুবুদ্ধির প্ররোচনায় বলিতে পারি না, বাঙ্গালা ভাষাকে হিন্দুর ভাষা বোধে বাতিল করিয়া তৎস্থলে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের উর্দু ভাষাকে আপনাদের মাতৃভাষা ও জাতীয় ভাষার স্থলাভিষিক্ত করিবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করিতেছেন।’ এভাবেই সাহিত্যবিশারদ তাঁর মায়ের ভাষা নিয়ে বলেছিলেন খোলাখুলিভাবে। তেজোদীপ্ত স্বর না হলে কি জাতির জীবনে জোয়ার আসে?
১৯১৪ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত সপ্তম বর্ষ বাংলাসাহিত্য সম্মেলনে পঠিত ‘বাঙ্গালায় মুসলমানগণের মাতৃভাষা’ শীর্ষক অভিভাষণে সাহিত্যবিশারদ মাতৃভাষার স্বরূপ ও তা জাতীয় জীবনে স্বীকৃতি আদায়ে করণীয় এবং ভিন্নভাষা গ্রহণকারীদের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন। যেমন- ‘জন্ম হইতে মৃত্যু পর্যন্ত যদি কোনও ভাষায় প্রয়োগ বাঙ্গালীর থাকে, সে ভাষা এই বাঙ্গালা ভাষা। এবং অন্য ভাষাপ্রেমীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন- ‘… মুখে বা কাগজে-কলমে তাঁহারা যাহাই বলুন না কেন, দেশের প্রাকৃতিক অবস্থা ও আবহাওয়া তাঁহাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধির প্রতিকূল।’ সাহিত্যবিশারদের আরেক অভিভাষণ সম্পর্কে বদরুদ্দীন উমর বলেন- ‘চট্টগ্রাম সংস্কৃতি-সম্মেলনের পর থেকে পূর্ব বাঙালায় বিশ-বৎসর ধরে যে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বিকাশ ঘটে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের এই অভিভাষণকে সেই আন্দোলনের ঘোষণা বললে বিন্দুমাত্র অত্যুক্তি হবে না।’ এটাও কেউ অস্বীকার করে না, ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয়তাবোধের যে সন্ধান জাতি পায় তার সর্বশেষ ও চূড়ান্ত ধাপ মহান স্বাধীনতা অর্জন। স্বাধীনতার পটভূমি তৈরি করে দেয় ৫২‘র উত্তাল ঢেউ। এ ঢেউয়ের অন্যতম উদগাতা সাহিত্যবিশারদ। ১৯৫৩ সালে সাহিত্যবিশারদ পরলোকগমন করলেও তাঁর মানস ভূমিকা রাখেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। ইসরাইল খান যেমনটা লিখেন- ‘১৯৭১ সনে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে যে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হবে- তার পটভূমি তৈরি হলো যে সকল ঘটনার দ্বারা- তিনি হলেন তারও কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব। যাঁরা ঘটালেন সেই সুদূরপ্রসারী ঐতিহাসিক ঘটনারাজি- তিনি হলেন তাদেরও শিনোমনি।’ মূলকে অস্বীকার করলে যেমন শরীরের অস্তিত্ব নড়বড়ে হয়ে যায় তেমনি সাহিত্যবিশারদের মতো আলো-জ্বালা মানুষদের ভুলে যাওয়া- নিজেদের ইতিহাসের সাথে প্রতারণা করা। শুধুমাত্র বাংলা একাডেমিতে একটা মিলনায়তন কিংবা চট্টগ্রামে একটি সড়ক নামকরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাঁকে জানতে, সর্বোপরি মধ্যযুগীয় সাহিত্য-ইতিহাস, ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জানতে হলে সাহিত্যবিশারদকে জানতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন সাহিত্যবিশারদ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা। শুধুমাত্র সাহিত্যবিশারদ নয়, জাতির মহান সন্তানদের যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করা ভাষা-আন্দোলনের শিক্ষাও বটে ।।