গ্রন্থ সাজিয়েছি কয়েকটি। তারপরও কথা থাকে। এ নিয়ে আজকের নিবন্ধ। ভাওয়াইয়া একটি অঞ্চলের গ্রাম্য গান, যা সেখানকার কথ্য ভাষায় লেখা। এর সুর সম্পূর্ণ আলাদা। ক] সুরের বৈচিত্র্য আছে, খ] তাল ও ছন্দ দোতারার অনুগামী, যে কারণে এর নাম দোতারার গান, গ] স্বরভঙ্গ আছে মেলোডির মাধ্যমে, বিশেষ করে গানের শেষে স্বরভঙ্গ, যত্রতত্র নয়, ঘ] ‘হ’কারন্তের সঙ্গে পার্থক্য আছে। ‘হ’কারন্ত আছে ভাটিয়ালি গানে। যদিও তা যত্রতত্র নয়, ঙ] বিদেশী সুরের সঙ্গে সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম গ্রন্থটি লিখেছেন- অষধহ খড়সধী তার ঋড়ষশ ঝড়হমং ্ ঝঃুষবং গ্রন্থ। এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি, যা অনেকে পড়েননি। বলেছি ভাওয়াইয়ার সুরের সঙ্গে সংগতি খুঁজে পাই মঙ্গোলিয়ার সুরের সঙ্গে। আবার রুমানিয়া গিয়েও এটির সন্ধান পেয়েছেন দেবেশ ভট্টাচার্য। তার পাঠান ভাওয়াইয়া সুরের অনুরূপ। মঙ্গোলিয়ায় গানটি গাইছে ঘোড়ার পিঠে, আর ভাওয়াইয়ার গীদাল গাইছে মহিষের পিঠে। এইটুকুই পার্থক্য। বিশ্বে বাংলাদেশের লোকসংগীতের স্থান কোথায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি বহুবার টেলিভিশনের মাধ্যমে ‘ভরা নদীর বাঁকে’ অনুষ্ঠানে। মোদ্দা কথায় বলতে হয় পৃথিবীর আটটি শ্রেষ্ঠ সংগীতের স্থান নির্ধারিত করতে গিয়ে খড়সধী এসে ঠেকেছেন বাংলাদেশ, পশ্চিমবাংলা ও আসামে। উনি বলেছেন এটি ঘড়নষবংঃ গঁংরপ এর অন্তর্গত। আমার এই গবেষণা শোনার পর কয়েকটি গ্রন্থ রচিত হয়েছে বাংলাদেশের লোকসংগীত নিয়ে।
আব্বাসউদ্দিন সম্পর্কে লিখতে হলে অন্তত পক্ষে কয়েকটি পৃষ্ঠার প্রয়োজন। যাদের জানার প্রয়োজন তারা নিশ্চয় সংগ্রহ করবেন আমার প্রণিত ‘আব্বাসউদ্দিন: মানুষ ও শিল্পী’, ৭০০ পৃষ্ঠা, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ প্রকাশ করেছে। বইটিতে সব কথা বলা আছে।
শীতের সোনা রোদে ভরে গেছে সকাল। মাঠজুড়ে পাকা ধানের মৌ, চঞ্চল কৃষক সমাজ। ধানকাটা, ধানমাড়াই আর বেচাকেনার আনন্দে মুখরিত গ্রামজীবন, বর্ষায় যা হয়েছিল রোপিত তারই ফসল প্রাপ্তির আবাহনে। তারপর মাঠ হয়ে যাবে শূন্য, সেই শূন্য প্রান্তরে জেগে উঠবে সুর। মন পাগল করা, হৃদয় বিদীর্ণ নানা সুর। আমাদের ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে ফাঁকে শুনতে চাইলে, শুনতে পাবেন প্রান্তরের পরে আছে যে দিগন্ত, সেই দিগন্ত ছাড়িয়েও যে সুর সচকিত করে মানুষকে, সেই সুরেরই কিছু কথা।
যে গান স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফুটিয়ে তোলে প্রাণের আবেগ ও আকাক্সক্ষাকে, শ্রোতার জন্য প্রতীক্ষা না করে, প্রকৃতির কাছে যার সমর্পণ তাই লোকসংগীত, লোকের মুখে মুখে এর সঞ্চালন। মাঠে কাজের উপলক্ষে হালের গরুকে বা মহিষকে নিজের সাথী করে তার সঙ্গে আলাপন, এই গানেরই নাম ভাওয়াইয়া। ভাব থেকে ভাওয়া অথবা ভাওয়াইয়া থেকে ভাওয়াইয়া গানের নামকরণ হবে হয়ত। কিন্তু এ ধূ ধূ প্রান্তরের গান, কাশ, নলখাগড়ার জলাভূমি, বিস্তীর্ণ জেগে ওঠা চর ও নির্জন মাঠের গান ভাওয়াইয়া। মেঠোসুরের গান বলতে, তাই ভাওয়াইয়া গানের আলোচনা দিয়েই শুরু করতে হয়।
ক’ভাবী মোর বধূঁয়া কেমন আছে রে?
তোর বধূঁয়া আছে রে ভালে
দিন কতক কন্যার জ্বর গেইছে রে
ওকি কন্যা চায়া পাঠাইছে জিয়া মাগুর মাছরে।
এ গানের সুর উত্তর বাংলার মানুষের সত্তায় আলোড়ন জাগায়। কুচবিহার সংলগ্ন আসামের গোয়াল পাড়া, পশ্চিম বাংলার জলপাইগুড়ি, কুচবিহার, দিনাজপুর ও বাংলাদেশের রংপুর, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে ভাওয়াইয়া গান গীত।
ভাওয়াইয়া গানকে মেঠোসুরের দিগন্ত থেকে সংগীত সমাজে ও বৃহত্তর শ্রোতৃ সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে যাঁদের অবদান আছে তাদের আমরা বিস্মৃত হতে পারি না। আব্বাসউদ্দিন আহমদ এই গানের প্রতিষ্ঠা দিয়ে গেছেন। আরও ছিলেন নায়েব আলী টেপু, সুরেন্দনাথ বসুনীয়া, কেশবচন্দ্র বর্মণ, প্যারীমোহন দাস, ধীরেন্দ্রচন্দ্র সরকার, প্রতিমা বড়ুয়া।
ভাওয়াইয়া গানে নারী বিরহের আকুতি, বেদনাহত নারীর ক্রন্দন আছে। ধীরে ধীরে এই ব্যথার সুর বিকশিত। আর আছে গলার মধ্যে ভাঙা। দোতরার সঙ্গে এই গান গাওয়া হয়। গ্রাম্য রাখাল বা মহিষরক্ষক তার মাঠের কাজের অবসরে দোতরা সহযোগেই এই গান গেয়ে থাকেন। এক বার তার গলায় তারপর দোতরাই সেই একই সুর বাজিয়ে এই গানের দ্যোতনাকে সুন্দর করে তোলেন। দোতরা ছাড়া এই গানের স্ফুর্তি নেই। তাই ভাওয়াইয়া দোতরার গান। এই দোতরা ভাটিয়ালি গানের দোতরার গঠন প্রকৃতির চেয়ে আলাদা। কিছুটা লম্বাটে ধরনের ও মুগার সুতার তার সংযোজিত। আর এই দোতরার ডাং ও সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র প্রকৃতির। বাউদিয়া বা ছন্নছাড়া উদাসী প্রকৃতির মানুষ ভাওয়াইয়া গানকে অবলম্বন করে নির্জনে এই গানের চর্চা করতেন প্রথম দিকে।
নিধুয়া পাথারের এই নির্জনের সাধকরা যে সুর ও গানের রসিক তা সত্যিকার লোকসংগীতের সুরে প্রতিষ্ঠিত। অথচ ভাওয়াইয়া গানেরও নানা সুর বৈচিত্র্য ও ভাগ আছে। যেমন: চিতান ভাওয়াইয়া। এই গান বিচ্ছেদ বেদনায় ভেঙে পড়ার গান। যেমন
ওকি একবার আসিয়া সোনার চাঁদ মোর যাও দেখিয়ারে।
আদিয়া আদিয়া যান রে বন্ধু ডারা না হন্ পার
ও হোরে থাউক বোল্ তোর দিবার থুবার দেখা পাওয়া ভাররে।
গানটি আব্বাসউদ্দিন আহমেদ এর কণ্ঠের। রেকর্ড করা হয়েছিল মে ১৯৩৯ সালে। গানটির সুরকার ও রচয়িতার নাম জানা যায় না। উত্তর বাংলার কথ্য ভাষায় রচিত গানটির অনেক কথা সাধারণ শ্রোতাদের বোধগম্য হয় না, যেমন,
আইলোৎ ফোটে আইল কাশিয়া দোলাৎ ফোটে হোলা।
এখানে দোলা মানে নিম্নভূমি জলাশয় হোলা মানে শাপলা। ভাওয়াইয়া যেমন তেওড়া তালে, তেমনি বেশিরভাগ চিতান, কাহারবা তালে গীত, যেমন:
ও মোর চান্দরে মোর সোনা
ও মোক ছাড়িয়া না জান বৈদ্যাশ বন্দরে
রাইতে চান্দ সোনা ফুটিবে তুমি চান্দ মনে ফুটিবে
তাতে মন মোর হাতাসে উড়াইবে মোর সোনারে।
ভাওয়াইয়ার আরেক রূপ ক্ষীরোল। এই গানে দোতরা বাজানোর একটি বিশেষ ঢং আছে। যাকে বলা হয়, ক্ষীরোল ডাং বা ঝঃড়ৎশব বিরহের প্রতীক এই ক্ষীরোল সাধারণত কিছুটা নিচু গ্রামে আরম্ভ, তারপর উচ্চগ্রামে যায়।
তুই মোরে নিদয়ার কালিয়ারে
ও মোর কালিয়া দয়া নাই তোর প্রাণেরে
আঙিনা সামটিয়া, ঘর না নেপিয়া ঘর না মুছিনুরে
ও মোর কালিয়া বেড়াইয়া নাই মোর ঘরে রে।
ক্ষীরোল ভাওয়াইয়া কাহারবাতেও আছে
আইল বাঁধো কন্যা জলরে ছ্যাকো গোরা গায়ে কন্যা কাদা মাখো
আজি চৌক তুলি কন্যা দ্যাখো আমার আগে
এরপর আছে দীঘলনাশা ভাওয়াইয়া এই শ্রেণীর গানের শব্দ দীর্ঘ ও প্রাণস্পর্শী সুর তাই একে দীঘলনাশা বলা হয়, যেমন,
ওকি গাড়িয়াল ভাই, হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে
দীঘলনাশা ভাওয়াইয়াকে দরিয়া ভাওয়াইয়া বলা হয়ে থাকে। এরপর আছে মইষালী চাল ও সোয়ারী চাল ভাওয়াইয়া। মইষের পিঠে বিশেষ ঢঙে এই গান গাওয়া-
মহিষের পৃষ্ঠে বান্ধিয়া নিচোঙ সারিন্দা দোতরা কন্যাহে
ও কন্যা হস্তে কদমের ফুল তিন কন্যা জলোৎ যায়
কারবা কেমন তুল কন্যা হে
বলদ নড়াও বলদ চঁড়াও হে
ও কন্যা বলদোক মারোঙ ওরে কোড়া
বলদের পৃষ্ঠে তুলিয়া নিচোঙ
সারিন্দা দোতরা কন্যা হে।
এই হল দোতরার দুলকি চাল। গায়কী ঢং ও মাঝখানে ‘হ’ কারান্ত অর্থাৎ বহলদ নহড়াও এই ‘হ’ এর মধ্যবর্তী প্রয়োগ, দোতরার ডাং এইগুলো পূর্ণভাবে সন্নিবেশিত না হলে এই গান হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাবে। এর রসগ্রহণ সম্পূর্ণ হবে এই মেঠো প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মবোধে। যে এই পরিবেশে যায় নি সে বুঝবে না এই নিধুয়া পাথারের আবহ। ঠিক তেমনি একটি গান যেমন: আরে ও বাঙ্গর ভইষের দফাদার গানিটিতে এই মইষালী ঢঙটি অন্যভাবে বিধৃত। আবার কাহারবা তালে মইষালের গান আছে যেমন-
আজি গাও তোল গাও তোল ও মইষাল বন্ধুরে
গাও তোল গাও তোল বন্ধু গাও তোল ভাঙগিয়া।
নায়েব আলী টেপুর গাওয়া মইষালের গান ক্ষীরোল ছন্দে যেমন-
ওরে ধিক ধিক মইষালরে মইষাল ধিক গাবুরালি
এ হেন সুন্দর নারী কেমনে যাইবেন ছাড়ি মইষাল রে
ওরে তোমরা যাইবেন মইষ বাতানে রে
মইষাল আমার বাদে কি
তোমার পেন্দনে শ্যামলাই ধুতি আমার দাঁতের মিশি মইষালরে
গানটি প্রচলিত। গীতিকার সুরকারের নাম অবলুপ্ত। ফেব্রুয়ারি ১৯৪১ সালে নায়েব আলী টেপু গানটি রেকর্ড করেন। এ ছাড়া আছে গড়ান ভাওয়াইয়া। নাম শুনে বোঝা যায় এই গানের অবস্থা। যে গান নারীকে বিরহ বেদনায় এমনি কাতর করে যে তার অবস্থা ধুলায় গড়াগড়ি যাওয়ার মত, তখন তাকে গড়ান ভাওয়াইয়া বলা হয়। যেমন
ও মোর জানিয়াও জানেন না।
শুনিয়াও শোনেন না
আই মোর জ্বালেয়া গেইলেন মনের আগুন নিভায়া গেইলেন না।
ভাওয়াইয়া গানের সুরে মিশ্র সুরের আবির্ভাব আছে বৈকি। আরও আছে তালফেরতা, অর্থাৎ ক্ষীরোল ডাং এর সঙ্গে যেমন
যামো যামো যামো কন্যাহে কন্যা যামো আজি চলি
যাবার সময় কও হে তুমি মনের কথা খুলি কন্যা হে
ও মুই কান্দিনু কাটিনু তুই বন্ধুয়ার বাদেরে
ও মোক ছাড়িয়া না যানরে
দিনু কি দিনু মোর পরান ছাড়িয়া যাবার চান মোরে
ও মোক ছাড়িয়া না যানরে
ভাওয়াইয়া গানের মেঠোসুর হারিয়ে যায়নি। লোকসংগীতের অংশ হিসেবে ভাওয়াইয়া যেদিন থেকে সংগীতের সমাজে আপন আবরণ উন্মোচন করে আবির্ভূত হয়েছে সেদিন থেকে, অর্থাৎ গত ৬০-৭০ বছরে ভাটিয়ালি গানের পরেই ভাওয়াইয়া তার সুন্দর আসনটি করে নিয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে, বাংলাদেশের বাইরে ভাওয়াইয়া এখন সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় লোকসংগীত। এর সুরের সঙ্গে মঙ্গোলিয়ার লৌকিক সুরের সাদৃশ্য চমকিত করে, কোন সুদূর অতীতে মঙ্গোলিয়ার মানুষের সঙ্গে চৈনিক সংযোগে এই সুর আমাদের দেশের সুরকে আলোড়িত করেছিল হয়ত।
ভাওয়াইয়া বেঁচে থাকবে কি? থাকবে, তবে গ্রামে। শহরে যারা গাইছে, তাদের গানটির আবেদন ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর। কারণ তারা ঐ পরিবেশ থেকে ভিন্ন পরিবেশে চলে এসেছে। তাই শহরে ভাওয়াইয়া বাঁচবে না। টেলিভিশনে যে সমস্ত নতুন শিল্পী গাইছে, তারা ভালোই গাইছে। কিন্তু এর প্রকৃত রূপ নিয়ে একদিনও আমাদের কাছে একটি কথাও জিজ্ঞেস করতে আসে নি। তারা ভাবছে আমরা নিজে নিজেই তো অনেক দূর এগিয়ে গেছি। মুস্তাফা জামান আব্বাসী, ফেরদৌসী রহমান এদের কি প্রয়োজন? সত্যি তো প্রয়োজন মোটেও নেই। কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি ওরা ভাওয়াইয়ার মধ্যে প্রবেশ করতে পারেনি। যতদিন গলাটি সুন্দর আছে, ততদিন মোটামুটি গাইতে পারবে। তারপর ওরা হবে পরিত্যক্ত।
তা হলে ভাওয়াইয়া বাঁচবে কোথায়? সেখানেই যেখানে আছে মইষাল, যেখানে আছে গরুর গাড়ি, যেখানে পোয়ালের পুঁজ, যেখানে আছে কুয়ো, আছে বাংলার রমণী। কুচবিহারের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে এসেছি। গ্রামগুলো শহর হয়ে গেল। গরুর গাড়ি নেই, বাস চলছে, আব্বাসউদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত। কোথাও আর নেই সেই পরিবেশ। তার মধ্যেও যখন নুটু বর্মনের মেয়ে গান গেয়ে উঠল, তার পিতা বাজাচ্ছেন দোতারা, তখন সহসাই বুঝলাম, আছে আছে, ভাওয়াইয়া বেঁচে আছে। ঐ মেয়েটাই বাঁচিয়ে রাখবে। যারা গ্রামে গাইছেন, কুড়িগ্রামে, রংপুরে, লালমনিরহাটে, গাইবান্ধায়, জলপাইগুড়িতে, ধুপগুড়িতে, বলরামপুরে, কৃষ্ণপুরে, ওদের সন্তানরা দোতারা বাজিয়ে যে গান গাইছেন, সেটি মরবে না। দোতারাকে বাঁচাতে হবে। ঐ পরিবারগুলোকে শনাক্ত করতে হবে। ওদেরকে কিছু টাকা পয়সা দিতে হবে, তা হলেই ভাওয়াইয়া বাঁচবে। ওহঃধহমরনষব ঐবৎরঃধমব নামে ইউনেস্কো টাকা ঢালছে অন্যায়ভাবে। এগুলো বাজে লোকের পকেটে যাচ্ছে। এতে বাউলের উপকার হয়নি। আমি বলেছিলাম জারি গান বাঁচাতে। ইউনেস্কো রাজি হয়নি। বলেছে এগুলো ধর্মীয় সংগীত। এগুলো মরে গেলে কোন অসুবিধা নেই। দশ বছরে জারিগান অবলুপ্ত। ইউনেস্কোর কোন প্রবলেম নেই। এখন তারা সাপুরেদের মন্ত্র সংগীত বাঁচাবার আদাজল খেয়ে লেগেছে। ওগুলো বেঁচে থাকলে আমি খুশি হবো। কিন্তু সেটা ভাটিয়ালি বা ভাওয়াইয়ার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। আমার কথার কোন দাম নেই, তাই এই কথাগুলো অরণ্যে রোদনের শামিল।