মুখ লুকোবার জায়গা নেই
মুখ লুকোবার জায়গা নেই
আয়নাক্রান্ত সময়
পরিপার্শ্বব্যেপে পারদের পরশ্রীকাতর
চতুর্দিকে প্রভুত্বের দাবি
আর বণিকের স্বায়ত্তশাসন
নূহের প্লাবনেও উদর ডোবে না
এমন উজদের দখলে এদেশ
কারুনের সম্পদের ভারে
বহুজাতিক ব্যাংকগুলো উপচে পড়ছে
বণ্টনের বিরুদ্ধে আজ গণতন্ত্রীগণ
অস্ত্র ও অর্ঘের প্রতিযোগিতায়
মোল্লা পুরুত আর পাদ্রীরাই প্রাগ্রসর
মুক্তবাজার থেকে কিনে নিচ্ছে হত্যাধিকার
বলবর্দকেই প্রকৃত প্রেমিক বলে
মেনে নিচ্ছে মেয়েরা
সততার নিখুঁত অভিনয় চলছে মঞ্চে মিনারে
দম্ভের ভয়ে জ্ঞান ন্যুব্জ হয়ে গেছে শিরদাঁড়া
সন্ধ্যার আগেই আতঙ্ক দখল করছে এসে
শহরের স্বপ্নসমূহ
সন্ত্রাসই শান্তি বলে স্বীকৃত হচ্ছে সমাজে
সংবাদপত্রগুলো হত্যা ও রক্ত দেখে
হাততালি না দিয়ে পারছে না
বীর আর্গোনটরা স্বর্ণমেষের খোঁজে
বহু আগে শহর ছেড়েছে
এই ফাঁকে কারা খুলে দিয়েছে
ফেরাউনের বাঘগুলোর শেকল
আর মুসা তাঁর সাথীদের নিয়ে
পার হয়ে যাচ্ছে পদ্মা মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র।
কবিজন্ম
কবির জন্মদিন অস্থির কালির কান্না
পৃথিবীর আগে ও পরের সব জন্ম জড়ো হলে
কোটি-কোটি কান্নার কাহিনী
জন্ম অনিবার্য নয় মৃত্যুই অমোঘ
যতবার মৃত্যু হয় মাতৃকষ্টে
মেঘনা ও যমুনার শোক ভেঙে পড়ে
জন্মের আনন্দ সে তো পিঁপড়ের পাখা
বেঁচে থাকা কোকিলের খাদ্যান্বেষণ
যত মাথা তারো চেয়ে বেশি তরবারি
যত ঈসা তারো চেয়ে বেশি হেফাস্টাস
মানব জন্মের দায় কেউ তো নেবে না
পিতা ও প্রকৃতি পায় আনন্দের ধারাবাহিকতা
শুধু মাতৃমন বিচারের দিন
চিৎকার করে ওঠে- ঐ যে আমার সন্তান
নির্দোষ- ওকে ক্ষমা করো প্রভু
পিতা নয় মাতা নয় কবির জন্মের দায় কবির একার
নিজের অস্থি খেয়ে কবি এক অনন্তের পাখি।
মুক্তবাজার
কোথাও কেউ নেই গভীর বনপথ
পথের মাঝখানে কে যেন চিতাবৎ
অবুঝ ভঙ্গিতে চাটছে থাবা তার
হয়তো ভাবনায় আসছে বার বার
শিকার ফুরিয়েছে অভাবী সংসার
হঠাৎ দেখলো সে আমার ছায়াধার
উঠলো জ্বলে তার চোখের তলোয়ার
আমিও বহুদিন ঘুরছি বনে বনে
ক্ষুধায়-পিপাসায় হয়েছি গন্গনে
প্রতিটি আচরণে রয়েছে উল্লেখ
আমাকে দেখছে সে আমিও অনিমেখ
দু’জন দু’জনার বসেছি মুখোমুখি
পারলে এক্ষুনি কলজে ছিঁড়ে ঢুকি
এভাবে কেটে গেলো হাজার হিমযুগ
এখানে কেউ নই কারোরই কৃপাভুক
কে কাকে ছিঁড়ে খাবে জানে না কেউ কিছু
ক্ষুধার হার বাড়ে শুধুই মাথাপিছু।