আলী ইমাম
চালাকি
বিশাল মাঠের কোণার দিকে গাছটি ছিল ছাতিম,
তার ডালে যে বাসা বেঁধে কাক পেড়েছে ডিম।
কাকিনীটা ডিমের ওপর তা দিচ্ছে বুকে,
কোকিল বুঝি বুদ্ধি আঁটে এসব দেখে ঝুঁকে।
ভাবতে থাকে কেমন করে লুকোচুরি করে,
ডিমটা তার গোছিয়ে দেবে বোকা কাকের ঘরে।
কাকটা কিছু টের পাবে না ডিম ফুটিয়ে যাবে,
এমনি হলেই কোকিল মা-টা তার ছানাকে পাবে।
কাকের সাথে কোকিল করে এমন চালাকি,
কাকিনীটা কোকিল ছানার তাইলে খালা কি?
ফারুক নওয়াজ
মাগুরার ছড়া
অমিন্দে। ০১
ও মিয়া ভাই সারিন্দে…
কেমনে যাবো হরিন্দে?
ওদিক থেহে যাইও নাকো
মাতুব্বরের বারিন্দে।
তাইলে যাবো কমিন্দে?
যাও না ঘুরে অমিন্দে!
সময় নাই। ০২
যাও কনে গো কলুর ছাওয়াল?
আমার নাম তো আব্দুল আওয়াল!
ঠিক আছে, তয় যাও কনে?
শ্বশুর বাড়ি শালবনে।
মাটির ভাঁড়ে নিছো কি?
ঘরের গাইয়ের গাওয়া ঘি।
সঙ্গে আর কি নিছো ভাই?
অতো কথার সময় নাই!
মাগরো। ০৩
খুল্লে থেহে মাগরো যাতি
পথে বাঁধে ঝিনেদা…
ঝিনেদাতে থামবো, থাইমে
বাসে চড়বো কিনে দা।
দা কিনবো, বঁটি কিনবো
আর কিনবো গামছাখান…
শাওড়িমারে বলবো গিয়ে
খিদে পাইছে ভাত চাপান।
আসলাম সানী
হাঁটতে হাঁটতে বাংলাদেশ
হাঁটতে হাঁটতে হয় কি পথের শেষ?
পথ চলাতেই সময় কাটে
স্বপ্ন অনিমেষ,
বাংলা ভাষার স্বপ্ন আশার
এইতো বাংলাদেশ,
এই তো রবীন্দ্রনাথ দাঁড়িয়ে
বিদ্রোহী এই পথ মাড়িয়ে
বঙ্গবন্ধু সব ছাড়িয়ে
ধন্য ধন্য বেশ,
সবুজ-শ্যামল এইতো আমার
দৃপ্ত বাংলাদেশ,
হাঁটতে হাঁটতে হয় না পথের শেষ
ডালে ডালে লালে লালে
কৃষ্ণচূড়ার রেশ
ত্রিশ লক্ষ বীর শহীদের
এই তো বাংলাদেশ।
আমীরুল ইসলাম
ঘুমের ছড়া
ওগো আমার খোকন সোনা।
ঘুমের দাম বারো আনা।
ঘুম আসে না। ঘুম আসে না।
ঘুম তোমার পায়ে পড়ি। ঘুম
গাছে শ্যামলাদের হাটে।
খোকন কাঁদে।
আয়রে আয় ঘুম। ঘুম আয়রে।
টাকা দেব। দুধ দেব।
পেট ভরে ভাত খাবি।
খোকন এখন ঘুমাতে চায়।
ঘুম আসবে পালকি চড়ে।
কোথায় পাব ঘুমের সওদা।
ঘুম তুই পলিয়ে যাবি না।
ঘুম তুই খোকনের চোখে
বুলিয়ে যা অঞ্জন।
ঘুম এক দুষ্টু পাখির নাম
ঘুম এক ঘুমতী নদীর নাম
ঘুম এক দুরন্ত শিশুর নাম।
ঘুম আসবে। খোকন ঘুমাবে।
আলম তালুকদার
জানালায় জোছনা
জানালা খুলে একলা আমি বসে আছি
রাতের বেলা ঘুরছে অনেক মশামাছি
ঘরের বাইরে চাঁদের আলোর হাসাহাসি
গাছের ছায়া আলোর হাসি পাশাপাশি
যাচ্ছে যাচ্ছে আস্তে আস্তে
কেউ চাঁদে পাচ্ছে পাচ্ছে
আলো ছায়া মায়া মায়া
মশা মাছি ধুপ ছায়া
দূর থেকে আসে কেউ
টের পায় কেউ কেউ
মেঘ আসে বাড়ি ফেলে
যাকে বলে হেসে খেলে
ডাক দেয় জোছ নায়
বসে আছি জান লায়
অবশেষে কিযে হলো বলছি আমি
বসে থেকেই হঠাৎ হলাম ঊর্ধ্বগামী
পাগল করা চাঁদটা ছিল কোজাগরি
দেখছি বসে চিকন আলোর গড়াগড়ি।
আশরাফুল আলম পিনটু
বুলবিহিনি বুলছে
কুণ্ঠে গেলি ওরে কালু
পাণ্ঠি লিয়া আয়
ধলা গাইয়ে দড়ি ছিঁড়া
পালার আউড় খায়।
বাছুরডা ফির তিড়িংবিড়িং
গেলছে কোতি ছুটে
ওদিখে দ্যাখ বকরিগুলা
মুখ দিয়েছে বুটে।
মুরগিগুলা ফেলছে খ্যায়া
সব উঠানের ধান
ওরে কালু তোখে লিয়া
হছি পেরেশান।
ভালো ভ্যাবা রাখনু তোখে
গিরস্থালির কাজে
নবাবগিরি করিস দেখি
বিহান দুফর সাঁঝে।
ওরে কালু, আর পারি না
বুকটা রাগে ফুলছে-
মামুর ব্যাটা, বুললে পারে
বুলবিহিনি বুলছে!
জগলুল হায়দার
চান্দি গরম
বাজেট এলে হর বছরই নতুন নতুন ভ্যাটে
গাতাগুতা খুঁইজা খুঁইজা ইঁদুর ধরে ক্যাটে।
ইঁদুর মানে আমজনতা ধরতে তাকে ইজি
তার পিছনে কর বাবুরা তাই তো বড় বিজি।
জামাতে ভ্যাট শাড়িতে ভ্যাট, ভ্যাট তো নানা ফুডে
বাজেট এলে তাই জনতা থাকছে না আর মুডে।
লিস্টি খোঁজে ভ্যাট ঢুকে ফের না জানি কোন খাতে
পকেট খালি তালিবালি নাই কিছু আর হাতে।
যা ছিলো তার ব্যালেন্স কিছু সেটাও যাবে কাটা
গরিব মানুষ সইবে কতো এই বাজেটের ঘা-টা।
এখন সবাই কাঁপছে জ্বরে বাজার কোথায় ছোটে
চান্দি গরম আওয়াজ নরম থাকবে কি আর ঠোঁটে?
আইউব সৈয়দ
বৈশাখ
গুঞ্জন শিহরণ চোখ যায় যদ্দুর
বিস্ময় সারাদিন আলো ছায়া রোদ্দুর।
আবেগে সুর তোলে কত শত আহারে
নতুনের হাতছানি চাটগাঁর পাহাড়ে।
ছুটে যাই জুটে যাই শৈশব স্মৃতিতে
ঢাকঢোল হালখাতা রঙ ছোঁয়া প্রীতিতে।
উচ্ছ্বাসী বৈশাখে ঐতিহ্য কুড়িয়ে
দূর হোক জরাগুলো ময়লারে পুড়িয়ে।
আতিক হেলাল
স্বাধীনতা, ভালোবাসা
স্বাধীনতা কাকে বলে,
সে কি শুধু দেশ?
স্বাধীনতা ভালোবাসা
গড়ে তোলে বেশ।
স্বাধীনতা প্রেয়সীর
গালে পড়া টোল
সেই গালে ছুঁয়ে দিলে
ওঠে কলরোল।
স্বাধীনতা নিভৃতে
হাতে রাখা হাত
আঁধারেও উষ্ণতা
ঘটে সারা রাত।
স্বাধীনতা রাত শেষে
আলোকিত দিন
সাদা-কালো চোখে দেখা
স্বপ্ন রঙিন।
সোহেল মল্লিক
শুভ প্রবাসে
সুখে-দুঃখে আজকাল
কেউ কারো পাশে না
পুড়ে মরে ঈর্ষায়
মন খুলে হাসে না।
লুটে-পুটে খায় যারা
তারা বেশি ফাঁসে না
চোরে চোরে মাসতুতো-
চোরাদের শাসে না।
স্বাধীনতা-স্মৃতিগাঁথা
কারো চোখে ভাসে না
নীতিকথা-প্রীতিকথা
কেউ ভালোবাসে না
এইসব কারণেই
শুভ দেশে আসে না।
মিজানুর রহমান শামীম
জবর দখল
বাঘ বলছে শালিক
পত্রিকাতে যা লিখছিস
বেশি করে তা লিখ
এই কথাটা রাখিস মনে
আমিই কিন্তু এ বাগানের মালিক।
এই শুনে যা শেয়াল
একটু রাখিস খেয়াল
বাঁশবাগানের চতুর্দিকে
দিচ্ছি তুলে দেয়াল।
শোনরে কালো ভালুক
পুকুর থেকে যা তুলে খা
কাঁটাওয়ালা শালুক
রাখিস মনে বনটা আমার
বাবার দিনের তালুক।
আয়রে মোটা হাতি
আমার কথা শোনবে না যে
লাগাও তাকে লাথি
তোমার জন্য রাখছি তুলে
বস্তা ভরা পাতি।
নাচিস কেনো বাঁদর
এইতো আমার পা ধর
আমার কিন্তু শাসন কড়া
একটুও নাই আদর।
শোনরে পশু সকল
যদিও দলিল নকল
তবু বনের মালিক আমি
কারণ জবর দখল।
মামুন সারওয়ার
ভোঁদড়
সোদর বনে ভোঁদড় থাকে
ভোঁদড় দেখতে গেলাম
আমার সাথে সবার প্রিয়
দাদুভাইকে পেলাম।
একটা ভোঁদড় দুইটা ভোঁদড়
ভোঁদড় এখন তিনটা
দেখতে দেখতে দুষ্ট ভোঁদড়
পাড় করে দেই দিনটা।
সন্ধ্যে হলে আবার ফিরি
মামা বাড়ি খুলনা।
ভোঁদড় নিয়ে লিখছি ছড়া
ঘটনাটা ভুল না
কামরুল আজাদ
মোহিনী ঘাতক
প্রাণপণে ছুটে যায় প্রাণের মায়ায়
বাপের বসত ভিটা ফেলে বহুদূর
যেখানে মমতাময়ী গাছের ছায়ায়
কেটেছে মায়ার রাত, সকাল, দুপুর।
সেখানে রক্ত নেশায় গেরুয়া শ্বাপদ
‘জীব হত্যা মহাপাপ’বাতাসে মিলায়
সহসা জীবনঘাতী এ কোন আপদ
আগুনের হোলি খেলে মায়াবী টিলায়?
দিশাহীন পথচারী সহায়ক খুঁজে
অকূল পাথারে ভাসে ক্ষুধিতের প্রাণ
বিবেকবাদীরা সব দেখে চোখ বুজে
গেরুয়া পিশাচ শুঁকে শরীরের ঘ্রাণ।
সভ্যতার গর্ভে হাসে অভব্য জাতক
শান্তির দূতও আজ মোহিনী ঘাতক।
এম এ মতিন
খ্যাপা
আসুন বসি অংক কষি হাজার বছর বাঁচার
কেমন করে মৃত্যুটাকে যায় করা যায় পাচার
এতো দারুণ ব্যাপার
কাণ্ড দেখে খ্যাপার
বলল জ্ঞানী ভিতর থেকে বন্দিশালায় খাঁচার।
আবদুল হাই ইদ্রিছী
ইচ্ছে করে
সবুজ শ্যামল দেশটি আমার
মায়ের মুখের হাসি,
প্রাণের চেয়ে প্রিয় তাকে
ভীষণ ভালোবাসি।
হাওর-বাঁওড় নদ-নদীতে
দেশটি আমার ঘেরা,
রূপে তাহার নেই তুলনা
গুণে সবার সেরা।
ফুুলের গন্ধ পাখির কূজন
হৃদয় মগ্ন করে,
প্রকৃতি তার সেজেগুজে
ডাকে মনটা ভরে।
রূপের বধূ মায়ার জাদু
দেশটি কুলে নিয়ে
ইচ্ছে করে দূর আকাশে
ঘুরি উড়াল দিয়ে।
মাহমুদ মোস্তফা
হৃদয়ফাটা দুঃখগুলো
দিনের বেলা সূর্যালোতে
সবকিছু ঝকঝকা
সেই আলোতে প্রিয়ার মুখও
উজ্জ্বল ও চকচকা।
রাত্রি এলে সূর্য ডোবে
অন্ধকারের কূপ
ভালোবাসার মানুষটিও
বদলে ফেলে রূপ।
তাই মুখে আজ ফুটছে না আর
দিল খোলা সেই হাসি
হৃদয়ফাটা দুঃখগুলো
ঝরছে রাশি রাশি।