কান্নাকে শরীরে নিয়ে যারা রাত জাগে
রাত্রির লেপের নীচে কান্নার শরীর নিয়ে করে যারা খেলা।….
– বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বর্ণা, তোমার দোর থেকে এক মুঠো ঘাস নিয়ে যাই-এমন কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে আমার। কিন্তু সময় এখন অত্যন্ত বিরূপ। কতোদিন এমন নরম কোমল ঘাস আমি দেখি না। আহা, এই শহরের বুকে কোনো এক দরজায় এত ঘাস অযতেœ কিভাবে বেড়ে উঠল! নাকি এই ঘাস প্রতিদিন কারো কোমল হাতের আদরে তিল তিল করে বেড়ে উঠেছে!
বর্ণার চোখে জল। ওকে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল আমার, তোমার জন্যে এমন ঘাসের মখমল তৈরি করে রেখেছিলাম, তুমি তা মারালে না। এই ঘাসগুলো কততো সবুজ। বিছনায় কাৎ হয়ে গালে হাত দিয়ে স্থবির মূর্তির মতো তাকিয়ে আছে বর্ণা। কালো পোশাকে ওকে খুব লাগছে। মনে হচ্ছে কোনো শিল্পী ক্যানভাসে এঁকে রেখেছে। দরজায় দাঁড়িয়ে আছি আমি। খোলা আকাশ পেছনে। জানালা দিয়েও আকাশ উপুড় হয়ে আছে। চিলেকোঠার ঘরটায় অদ্ভুত ভালো লাগা ছুঁয়ে আছে। নাকি এ ঘরে বর্ণা থাকে বলে সব সুন্দর এখানেই এসে জমা হয়েছে!
সে আমার কথা বুঝল কি বুঝল না। তাকিয়ে রইল নিষ্পলক। পাথরের দৃষ্টি কি একেই বলে! বুকের ভেতরটা হিম হয়ে আসে। ওর বুঝি এখন কান্নার প্রয়োজন। না কাঁদলে এ ব্যথা ও সইবে কি করে? আমি এত করে অনুনয় করলাম আমার সঙ্গে যেতে বললাম, ও যাবে না। কিন্তু ওর তো যাওয়ার জায়গা নেই। এ শহর বড় নিষ্ঠুর এখানে সহজেই কেউ জায়গা করে নিতে পারে আবার কেউ মাথা ঠুকলেও জায়গা পায় না। এভাবে একটি অসহায় মেয়েকে ফেলে যেতে ইচ্ছে করছে না আমার। আমি সব কিছু মেনে নিতে রাজি আছি, যুক্তির পর যুক্তি দেখিয়েছি কিছুই ও মানছে না। শুধু বলল, আমি আপনাকে ঠকাতে পারব না।
আমি বললাম, এখানে ঠকানো হলো কোথায়? তুমি তো কোনো দোষ করোনি। আর তা ছাড়া তুমি থাকবেই বা কোথায়?
ও বলল, এগুলো কোনো কথা নয়। এ শহরে কেউ না খেয়ে মরে যায় না। আপনি যান। আমার কিছু হবে না। কাপুরুষটাকে বলবেন আমি ওরকম মেয়ে নই, ওর জন্য মরে টরে যাবো। বেঁচে থাকব আমি, সহজে মরব না। ওর মুখোমুখি হবোই একদিন।
আমি বর্ণাকে এত কথা বলেছিলাম কারণ ওর সন্তানের জন্যে। ওর সন্তানকে পরিচয় দেয়ার জন্যে।
দুই
আসলেই আমরা এমন কিছুই ভেবেছিলাম । আমরা মানে আমি আর পলাশ। খোকন আমাদের বন্ধু। যে এখন আর আমাদের মধ্যে নেই। নেই মানে ও বাইরে চলে গেছে। আসল ঘটনা বর্ণমালাকে বলতে বারণ আছে। খোকন সত্যিই ভালবাসতো বর্ণাকে। খোকন মাঝে মধ্যে বর্ণমালাকে বর্ণাও ডাকত। দু’টিতে এত ভাব ছিল। সবাই জানে ওদের কথা। এ শহরে যে কোনো শপিংমল, চায়ের দোকান কোথায় ও দু’জনের পা পড়েনি? সবাই জানে ওদের কথা। ওদেরকে কে না দেখেছে। সে কথা থাক।
আমার ভেতরটা কে যেন টেনে ধরছে। আমি কিছুতেই বর্ণমালাকে ছেড়ে যেতে পারছি না। কারণ আমিইও ওকে ভালবেসেছিলাম। বর্ণমালাকে আমিই প্রথম আবিষ্কার করি। ওর সঙ্গে ভাবটা প্রথম আমারই হয়েছিল। কিন্তু সব শুনে খোকন একদিন বলল, খবরদার তুই ভুলেও বর্ণমালাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখবি না।
আমি বললাম, মানে?
মানে তো সোজা।
সোজা মানে!
আরে ও আমার প্রেমে পড়েছে। তোর মতন এমন আউলা ঝাউলা ছেলে ওর নাগাল পাবে না। তার চাইতে শোকর করবি যখন ও আমার হবে।
আমি স্তব্ধ হতে গিয়ে হেসে ফেলি। বললাম, ও তো কারো সম্পত্তি নয়, ওরও তো একটা মন বলে কিছু আছে নাকি! তবে এ দুরূহ কাজটা ওর ওপরেই সমাপন করে দেনা।
খোকন বেশ হুঁশিয়ারি দিয়েই বলল, যা বলেছি, বলেছি। খবরদার এক পাও এগোবি না। তাহলে হারিয়ে কানবি শালা। খোকনকে কোনো যুক্তির নিক্তিতে ফেলা যায় না। সব কিছুতেই জবরদস্তি। মনে হয় সব কিছুই ও জোর করে নিজের করে ফেলবে। মাঝে মধ্যে ক্ষোভ ঝাড়ে গালাগালি করে। তখন আমরা বন্ধুরা কেউ ওকে কোনো উপদেশ দিতে যাই না।
খোকনের সঙ্গে এসব কথা অবশ্য অনেক পরে হয়েছিল। তার আগে বর্ণমালাকে আবিষ্কারের কথা বলা দরকার। একদিন ক্যাম্পাসে দুন্দমার লেগে গেল। গুলির আওয়াজ এসে মুহূর্তে সব কলরোল ঠান্ডা করে দিলো। শাটল ট্রেনের চালককে শুনেছি লাপাত্তা করে দিয়েছে। আমরা কোনোরকমে সোহরাওয়ার্দী হলের পাশ দিয়ে পায়ে হেঁটে বের হয়ে এলাম। আমাদের আগে আগে হাঁটছিল বর্ণমালা। হঠাৎ মেয়েটির সেন্ডেল ছিঁড়ে গেল। সেন্ডেল ফেলে মেয়েটি খালি পায়েই দৌড়াতে লাগল। আমি ওর ছেঁড়া সেন্ডেলটি নিয়ে এলাম। হাটহাজারীতে এসে বাসে চড়লাম। দেখলাম বর্ণমালার একপায়ের সেন্ডেল নিয়েই হাঁটছে। গাড়িতে উঠে আমি ফিতা ছেঁড়া সেন্ডেলটি এগিয়ে দিলাম। ও চোখ কপালে তুলল, হায় হায় কি করেছেন, এই বোঝা টেনে এনেছেন?
আপনি তো একপায়ে সেন্ডেল নিয়েই দৌড়েছেন।
কী করব ভাই। আগে তো জান। তাই না? তাই জান নিয়েই পালিয়েছি।
সেদিন আরেকটি দুর্ঘটনা আমাদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল। বাস থেকে আমাদের এক সহপাঠীকে নামিয়ে নিয়ে গেল মাঝ পথে। তার মানে শুধু ক্যাম্পাসে নয়, রাস্তাতেও গন্ডগোল ছড়িয়ে পড়েছিল। কী নৃশংসভাবে রাস্তায় ছেলেটিকে কুপিয়ে জখম করল ওরা। লোকজন সব হাঁ করে দেখল। আর ছেলেটি মাগো মাগো করে চিৎকার করল। কেউ বাঁচাতে এগিয়ে এলো না।
এই দৃশ্য দেখেই বর্ণমালা বমি করতে শুরু করল। ওর চোখ দুটো কেমন লাল হয়ে উঠেছে। মনে হলো করমচা। যা হোক, মেয়েরা পানি টানি দিয়ে ওকে ধাতস্থ করতে চাইল। আর বাসটা গো গো করে কোনোরকমে দুই নম্বর গেটে এসে থামল।
আমরা সবাই হুড়মুড় দুড়মুড় করে নামলাম। বাস থেকে নেমেই হাঁটু মুড়ে বসে পড়ল বর্ণমালা। সাথের মেয়েটি পেরে উঠছে না দেখে আমি হাত লাগালাম। ধরে একটি হেটেলে ঢুকালাম। বসালাম। বললাম আগে খেতে হবে। ভাত দিতে বললাম। ভাত খেতে খেতে কথা হলো। নাম জানলাম-বর্ণমালা। ইংরেজিতে পড়ে। আমাদের পড়ের ইয়ার। বললাম, আমি তো আপনার প্রতিবেশী। প্রশ্নবোধক তাকুনি দেখেই বললাম, আমি বাংলায় পড়ি।
এর ক’দিন পর ক্যাম্পাসে আবার দেখা হলো। মামুর দোকানে খাওয়া আর আড্ডায় ভালো লাগার বন্ধনে মন আমার আস্তে আস্তে জড়িয়ে পড়ছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধাল খোকন। ওর কাছে প্রতিদিন বর্ণমালার কথা বলতাম। আর ও কেমন জানি উদাস হয়ে যেত।
একদিন বলল, দোস্ত আমার মন এতদিন ধরে এমন একটি মেয়েকেই খুঁজে বেড়াচ্ছিল। তোকে ধন্যবাদ দেয়ার আসলে কিছুই নেই। বন্ধুই তো বন্ধুর জন্য করে, তাই না? তুই কিন্তু আমাকে বর্ণমালার সঙ্গে প্রেম ঘটিয়ে দিবি। শুধু তাই না, আর কোনোদিন যেন আমি তোর মুখে বর্ণমালার নাম না শুনি।
এই ধরনের ঘোষণা দিয়ে সেদিন দুপুুরে মেসে খাবার ফেলে বেরিয়ে গিয়েছিল খোকন। ফিরে এসেছিল রাতে। আমি বললাম, কিরে, এতো ইমোশনাল হলে চলবে কী করে? আমি কি বলেছি তোকে পরিচয় করিয়ে দেবো না। তুই যদি ওকে জয় করতে পারিস তবে আমার তো কোনো আপত্তি নেই। আমার মুখে একটি মেয়ের গল্প শুনতে শুনতে খোকন যে তাকে এতো ভালবেসে ফেলবে, কে জানত?
তারপরে একদিন পরিচয় করিয়ে দিলাম। পরিচিত হওয়ার পর মন জয় করার জন্য কম পাগলামি করেনি খোকন। বুদ্ধি পরামর্শ আমাকেই ধার দিতে হয়েছে। আর টাকা সে পানির মতো খরচ করত। বাপের টাকা ছিল। আমরা যেখানে রাত বারোটা পর্যন্ত টিউশনি করতাম সেখানে ও টিউশন করতই না। কিন্তু ওর গায়ে তেমন ভালো কোনো জামা কাপড় থাকত না। কপাল ছুঁয়ে লম্বা চুলের বাহার। মাঝে মধ্যে ঝাঁকি মেরে চুল সরাতে হতো। চোখ ঢাকা এই চুলে ওকে বেশ লাগত।
তিন
খোকনের বাড়ির পাশেই আমার বাড়ি। শৈশবের অনেক স্মৃতি এখনো জ্বলজ্বল করে। স্কুল পালানো, টিয়া পাখির বাচ্চা আনা, কিংবা আম চুরি করে খাওয়ার মতো হাজারো স্মৃতি আমাদের ঘিরে বেড়ে রেখেছে। ছাত্র ও বরাবরই ভালো। ও খুব চটপটে আর আমি চুপচাপ। প্রয়োজন না হলে কথাই বলতাম না। আমার মনে হতো কথা বললে লোকে বিরক্ত হবে। আমি যে আরো কত কিছু ভাবতাম তা বলার মতো কথা নয়!
যখন বর্ণমালার সঙ্গে খোকনের খুব দহরম মহরম চলতে লাগল তখন আমরা খোকনের কাছে কেমন অচেনা হয়ে উঠতে লাগলাম। খুব একটা দেখা হতো না আমাদের। আমি আর পলাশ মেসে একা একাই সব কিছু করতাম। মাঝে মধ্যে ওর ওপর চটে উঠতাম। পলাশ বলত, ওর ওপর চটে লাভ নেই। ও এখন আউট অফ কন্ট্রোল।
অনেক পরের ঘটনা। ভার্সিটি ছেড়ে তখন আমরা চাকরির পেছনে ছুটছি। একদিন দেখলাম খুব মন খারাপ করে বসে আছে খোকন।
জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে?
বলল, শরীর খারাপ।
আস্তে আস্তে ওর ভেতরে কেমন চেঞ্জ দেখলাম। ও মনে হয় বর্ণমালার সঙ্গে আর মিশছে না।
কী হলো? কিছুই বলছে না আমাদের।
শুধু আমাকে বলল, আমি কাল চলে যাচ্ছি। হয়তো চিকিৎসার পর ফিরে আসব। নাও ফিরতে পারি। তারপরেও তন্ময় তুই বর্ণমালাকে গিয়ে খবরটা দিস। তবে আমার আয়ু যে ফুরিয়ে এসেছে সে খবরটা ওকে দিস না। ও আমাকে অপরাধী করেই ভাবুক। দিব্যি রইল। বলিস না। তোর কাছে তো আমার অনেক কিছুই জমা রইল। এ কথাগুলোও জমা রাখিস। কখনই বলিস না ওকে। আর পারলে বর্ণমালাকে আগলে রাখিস। আমি জানি তুই বর্ণমালাকে ভালোবাসিস।
আমি কিছুই বলতে পারলাম না। খোকনের সব কিছুতেই আমি ছিলাম। আর কোনো কিছুতেই ওকে পাইনি আমি। তাই ও মাঝে মধ্যে বলে, আমি তোর বন্ধু নই, তবে তুই আমার খাঁটি বন্ধু। আমি জানি যতই ভুল আর ক্ষতি করি না কেন, তুই কখনো রাগ করে থাকতে পারবি না। বর্ণমালার কাছে আমার সন্তান রইলÑ পারলে রক্ষা করিস।
চার
না, খোকনের সন্তান রক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। বর্ণমালাকে আমি অনেক বুঝিয়েছি, ও কিছুতেই আমার কথা রাখেনি। তারপর একদিন গিয়ে শুনি ও বাসা ছেড়ে দিয়েছে। কোথায় গিয়েছে তার হদিস আমার পক্ষে পাওয়া সম্ভব হয়নি। গল্প এখানেই শেষ হলে ভালো হতো। কিন্তু গল্প শেষ হয় না। ঠিক দুই মাসের মাথায় খোকন আবার ফিরে আসে। আর তির্যকবাণে আমাকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ওর কথায় মনে হলো, বর্ণমালার হারিয়ে যাওয়ার পেছনে আমার হাত আছে। কথার এক ফাঁকে টেবিলের ওপর রাখা একগুচ্ছ শুকিয়ে আসা ঘাসের প্রতি ওর নজর গেল। বলল, এটা কী?
আমি বললাম, এটা বর্ণমালার দোরগোড়ার মাটিসহ ঘাস। ও আমার দিকে একটা হিংস্র দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল, এটা তোর কাছে রাখার অধিকার নেই।
আমি চুপ করে রইলাম। খোকনকে কোনো কথা শোনাতে আমার কস্মিকালেও ইচ্ছে জাগেনি, এখনো জাগল না। ও আগে যেমনটি ছিল, এখনও আমার কাছে তাই।
এখন আবার আমার বাসায় এক খাটে শুতে থাকল। রাত পোহালে আবার বর্ণমালাকে খুঁজতে গেলাম। কিন্তু কেউ আমাদের ওর খোঁজ দিতে পারল না। সময় কেটে যেতে থাকল। খোকনকে একটু উদাসীন উদাসীন মনে হলো। গ্রামে গেলে একদিন খোকনের মায়ের সম্মুখে পড়লাম। তিনি আমাকে দেখে ক্ষেপে উঠলেন। যাচ্ছে তাই ভাষায় তিরস্কার করলেন, আমি নাকি তাঁর সন্তানের অধঃপতনের জন্য দায়ী। নিজেকে খুব ছোট মনে হতে লাগল। আমি যদি বর্ণমালার খোঁজ না দিতাম খোকনকে তাহলে ওর জীবন আজ এমন হতো না।
পাঁচ
একদিন সন্ধ্যায় খোকন বলল, একটা নিশিকন্যার নাম্বার দে। আমি বললাম, ওদের দালালি কবে নিলাম যে, নিশিকন্যার নাম্বার তোকে দেবো।
ও চটে উঠল। বলল, রাখ তোর নকশা। শহরে ঘুরে বেড়াও দামড়া বেটাছেলে তোর কাছে বুঝি নিশিকন্যাদের নাম্বার নেই! বুঝেছি, দিতে চাস না, আর কি! চল বেটা আজ তোকে নিয়ে যাই। এই বলে খোকন আমাকে নিয়ে বের হলো। তখন চার পাশে সন্ধ্যা জমতে শুরু করেছে। রিকশাঅলাকে ও একটা আবাসিক এলাকার নাম বলল। রিকশা ছুটে চলল নির্দিষ্ট গন্তব্যে।
রিকশা এসে থামল এক বিলাসবহুল ফ্ল্যাটবাড়ির সামনে। নেমে এলাম আমরা। আমি চুপচাপ খোকনকে অনুসরণ করছি মাত্র। লিফটে চড়ে উঠে এলাম সাত তলায়। একটা নির্দিষ্ট দরজার সামনে গিয়ে ডোরবেল বাজাল খোকন। দরজা খুলে গেল। কাজের মেয়ে মনে হলো। আমাদের ড্রয়িংরুমে বসতে বলে ভেতরে খবর দিল মনে হয়। কিছুক্ষণ পর ডাক এলো। ভেতরে ঢুকে গেল খোকন। আমি বসে রইলাম। কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাকে কোথায় নিয়ে এলো খোকন?
বসে আছি আমি। একা একা বসে থাকা বিরক্তিকর। কিছুক্ষণ পর নারী কণ্ঠের চিৎকার শুনতে পেলাম। অল্পক্ষণেই বিধ্বস্ত খোকন বেরিয়ে এলো।
আমি অর্ধনগ্ন অবস্থায় বর্ণাকে দেখতে পেলাম। আমার চোখে চোখ পড়তেই কেমন চুপচাপ কাঠের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে গেল সে। খোকন আমাকে ধমকে নিয়ে এলো। আর কোনো কথাই জানা হলো না।
রাস্তায় কোনো কথাই বলল না খোকন। বাসায় ফিরে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ার আগে বলল, শুধু শুধু ফিরে এসেছি। ওর রাস্তা বদলে গেছে তন্ময়। আমার সন্তানকে ও নষ্ট করে ফেলেছে। ও এখন অন্য জগতের মানুষ।
আমার মুখ থেকে কোনো কথাই সরল না। বেরিয়ে গেল খোকন। আমার চোখে শুধু একরাশ অন্ধকার জমাট বেঁধে রইল। আর তার ভেতর বর্ণার আদ্যোপান্ত দুলতে থাকল রহস্যময়ী নারীর মতো। হ